প্রাক্তন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় কানাডাকে “মহান রাজ্যের গভর্নর” বলে সমালোচনা করা মন্তব্যকে সিবিসি’র নতুন ডকুমেন্টারি ট্রেইলারে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রেইলারে দেখা যায়, ট্রুডো এই মন্তব্যকে তুচ্ছ বলে, “এ পর্যন্ত আমাকে আরও কঠিন অপমান শোনাতে হয়েছে” বলে মন্তব্য করেছেন। এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট হল সিবিসি’র “Rivals: The 4 Nations Face‑Off” শিরোনামের ডকুমেন্টারির টিজার, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত চার জাতির আন্তর্জাতিক আইস হকি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও ফলাফল তুলে ধরবে।
ডকুমেন্টারির ট্রেইলারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওভাল অফিসের আর্কাইভ ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই দৃশ্যটি ট্রুডোর মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে দুই নেতার কথোপকথনের তীব্রতা ফুটে ওঠে। ট্রুডো এই দৃশ্যকে অপ্রাসঙ্গিক বলে, “এ ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হয়ে আমি কোনো নতুন কৌশল দেখিনি” বলে মন্তব্যের তীব্রতা কমিয়ে দেখিয়েছেন।
ডকুমেন্টারির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে কানাডার গ্র্যামি জয়ী গায়িকা চ্যান্টাল ক্রেভিয়াজুকের প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। ট্রাম্পের “৫১তম রাজ্য” মন্তব্যের পর, ক্রেভিয়াজুক বস্টনের টিড গার্ডেনে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের সময় জাতীয় সঙ্গীতের গীতিকবিতায় পরিবর্তন আনা নিয়ে দেশের গর্ব রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমার দেশের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা প্রয়োজন” এবং এই পরিবর্তনটি টুর্নামেন্টের সময়ের উত্সাহকে বাড়িয়ে তুলেছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ বস্টনে অনুষ্ঠিত চার জাতির টুর্নামেন্টে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন দল অংশগ্রহণ করে। টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচে টিম কানাডা টিম ইউএসএকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয়। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে কনর ম্যাকডেভিডের গোল টিম কানাডার বিজয় নিশ্চিত করে এবং তিনি এই মুহূর্তকে “দেশের গর্বের মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করেন।
ট্রেইলারে টুর্নামেন্টের সময় আইস রিঙ্কে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং রিঙ্কের বাইরে উত্সাহের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। “Elbows Up” নামে পরিচিত একটি আন্দোলন, যা কানাডার ভক্তদের মধ্যে দেশপ্রেমের উন্মাদনা বাড়িয়ে তুলেছে, তা ট্রেইলারের একটি মূল অংশ। ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের দলগুলোও রাউন্ড রবিনে অংশ নেয়, তবে টিম কানাডা ও টিম ইউএসএর ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা মিডিয়ার শিরোনাম দখল করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে কানাডার মধ্যে জাতীয় গর্বের বর্ধিত অনুভূতি দেখা গেছে এবং ট্রুডোর তুচ্ছ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রুডো এই মন্তব্যকে তুচ্ছ বলে, তবে কানাডার জনগণের মধ্যে ট্রাম্পের কথার প্রতি প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়ে উঠেছে। ডকুমেন্টারিটি এই ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষণ করে, কীভাবে একটি রাজনৈতিক মন্তব্য একটি ক্রীড়া ইভেন্টের উন্মাদনা বাড়িয়ে তুলতে পারে তা তুলে ধরবে।
সিবিসি’র “Rivals: The 4 Nations Face‑Off” ডকুমেন্টারিটি শীঘ্রই সম্প্রচারিত হবে এবং কানাডা‑যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে দর্শকরা টুর্নামেন্টের পেছনের গল্প, খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা পাবে।



