ইতালির রোমে সেন্ট লরেন্স বেসিলিকার লুসিনা চ্যাপেলের একটি ফেরেস্তা ফ্রেসকোতে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী গিয়র্জিয়া মেলোনির মুখের সাদৃশ্য দেখা যাওয়ায় সরকার ও চার্চ উভয়ই তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাঠিয়ে কাজের প্রকৃতি যাচাই করতে বলেছে, আর রোমের ধর্মপ্রদেশ ঘটনাটিকে “অসন্তোষজনক” বলে প্রকাশ করে দায়িত্বশীলকে নির্ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ফ্রেসকোটি ২০০০ সালে শিল্পী ব্রুনো ভ্যালেন্টিনেটি রঙায়িত করে, এবং সাম্প্রতিক সময়ে জল ক্ষতির পর পুনরুদ্ধার কাজ করা হয়। ৮৩ বছর বয়সী ভ্যালেন্টিনেটি দাবি করেন যে তিনি কেবলমাত্র মূল রঙের পুনরায় রঙায়ন করেছেন এবং কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চিত্র ব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, পুনরুদ্ধারকৃত মুখটি ২৫ বছর আগে তৈরি করা মূল রঙই।
ইতালীয় দৈনিক লা রিপাব্লিকার প্রতিবেদনে ফ্রেসকোর পূর্ব ও পরের ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মেলোনির সাদৃশ্যের দাবি উঠে আসে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, ফেরেস্তা হাতে ইতালির মানচিত্র ধরে আছে এবং তার মুখের রূপান্তরকে “সাধারণ চেরুব” থেকে মেলোনির মতো দেখানো হয়েছে। এই প্রকাশের পর দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রুনো ভ্যালেন্টিনেটি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন যে তিনি মুখের রূপান্তরকে মেলোনির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, পুনরুদ্ধারকৃত চিত্রটি পুরনো রঙের ধারাবাহিকতা এবং কোনো নতুন উপাদান যোগ করা হয়নি। তার বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কেউই বলছে না যে এটি মেলোনির মতো”।
প্রধানমন্ত্রী গিয়র্জিয়া মেলোনি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে মন্তব্য করেন যে তিনি “নিশ্চয়ই দেবদূত নন” এবং পোস্টে হাস্যকর ইমোজি যুক্ত করেন। এই প্রতিক্রিয়া তার সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
চ্যাপেলের পারিশ পাস্টরও রঙায়ন কাজকে জল ক্ষতির পরের স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং উল্লেখ করেন যে তিনি “এই ঝামেলা বুঝতে পারছি না”। একই সঙ্গে মনসিনিয়র ড্যানিয়েল মিচেলেট্টি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে চিত্রশিল্পীরা ফ্রেসকোতে নানা উপাদান যুক্ত করে থাকেন, তাই এই ধরনের পরিবর্তন অপ্রত্যাশিত নয়।
রাজনৈতিক পর্যায়ে দ্রুতই প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গণতান্ত্রিক দলের ইরিন মানজি ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে সমালোচনা করেন, আর পাঁচ তারা আন্দোলন জোর দিয়ে বলেন যে শিল্পকর্মকে কোনো প্রোপাগান্ডা সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়, মেলোনি চিত্রিত হোক বা না হোক।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আলেসান্দ্রো জুলি তৎক্ষণাৎ “প্রযুক্তিগত কর্মকর্তাদের” ফ্রেসকোটি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন, যাতে রঙায়নের প্রকৃত স্বরূপ নির্ধারণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রোমের ধর্মপ্রদেশ জানায় যে রঙায়ন কাজের আগে তারা জানত, তবে কোনো পরিবর্তন বা সংযোজনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ধর্মপ্রদেশের মতে, মুখের পরিবর্তনটি রঙায়নকারীর স্বতন্ত্র উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।
পরবর্তী সময়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ধর্মপ্রদেশের যৌথ তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনা ইতালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে শিল্পের ব্যবহার ও স্বতন্ত্রতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



