অক্টোবরের শেষ রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে চ্যাপেল রোয়ান রেডকার্পেটে একটি সাহসী পোশাক পরিধান করেন। তিনি লাল শিফন কেপটি খুলে একটি ন্যাকলেসের মতো নিপল রিংযুক্ত ড্রেস প্রকাশ করেন, যার ফলে তার উপরের অংশ প্রায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে। এই মুগলার ডিজাইনটি এই বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়া পোশাকগুলোর একটি হিসেবে উঠে আসে।
রোয়ান ইনস্টাগ্রামে নিজের পোস্টে এই চেহারাকে নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেন, “এটা ততটা অদ্ভুত নয়” বলে তিনি নিজস্ব শৈলীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এই লুকটি সত্যিই দারুণ এবং অদ্ভুত, নিজের ইচ্ছা মেনে চলা মজার এবং বোকা দুটোই”। এছাড়া তিনি গ্র্যামি আয়োজকদের এবং ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্টটি শেষ করেন।
অনেক ভক্ত রোয়ানের স্টাইলকে প্রশংসা করে তাকে “দেবী” ও “আইকন” বলে উল্লেখ করেন। একটি মন্তব্যে তিনি জাস্টিন বিবারের একই রাতে অন্ডারওয়্যার পরা পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “যদি জাস্টিন তার অন্তর্বাসে পারফর্ম করতে পারে, তবে তুমি পিয়ার্সড পাস্টি পরেও কোনো আপত্তি নেই”। এই মন্তব্যগুলো লিঙ্গ সমতা ও দেহের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনার সূচনা করে।
নিপল পাস্টি হল এমন এক ধরনের কৃত্রিম নিপল কভার, যা শারীরিক সুরক্ষা এবং আংশিক আচ্ছাদন উভয়ই প্রদান করে। রোয়ানের পোশাকে ব্যবহৃত পাস্টিগুলো নকশার অংশ হিসেবে দৃশ্যমানভাবে সাজানো হয়েছে, যা মুগলারের স্বচ্ছতা ও বেয়ার বেস্টের ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।
অন্যদিকে কিছু দর্শক রোয়ানের পোশাককে অতিরিক্ত বলে মন্তব্য করেন। একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, “আমি তাকে পছন্দ করি, তবে এটা বেশ বেশি। তাকে নিষিদ্ধ করা হবে কি না?” আরেকজন মন্তব্যে জিজ্ঞাসা করেন, “আমি বুঝতে পারছি না কেন মানুষ পোশাক পরার ক্ষেত্রে এতো বিরোধিতা করে”। এই ধরনের সমালোচনা সামাজিক মানদণ্ড ও শিল্পের সীমারেখা নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করে।
ফ্যাশন লেখক ও স্টাইলিস্ট অ্যালেক্স ফুলার্টন এই ডিজাইনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, মুগলার ব্র্যান্ড ১৯৮০-এর দশক থেকে স্বচ্ছতা ও বেয়ার বেস্টের থিমে কাজ করে আসছে, এবং রোয়ানের পোশাক সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। তবে তিনি স্বীকার করেন, “অবশেষে, তিনি পুরোপুরি নেকলেসটি প্রকাশ করেছেন”।
গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে রোয়ানকে রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার এবং বেস্ট পপ সলো পারফরম্যান্সের জন্য দুটি নোমিনেশন দেওয়া হয়েছিল, উভয়ই তার গানের “দ্য সাবওয়ে” জন্য। যদিও তিনি কোনো পুরস্কার জিততে পারেননি, তার পারফরম্যান্স এবং পোশাক উভয়ই মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
চ্যাপেল রোয়ান তার স্বতন্ত্র স্টাইল এবং “পিঙ্ক পোনি ক্লাব”, “হট টু গো”, “গুড লাক, বেবি!” মতো হিট গানের জন্য পরিচিত। তার সঙ্গীত ক্যারিয়ার তার সাহসী ফ্যাশন পছন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অনন্য শিল্পী চিত্র গড়ে তুলেছে।
রোয়ান আসলে কাইলি অ্যামস্টুটজের একটি অ্যালটার-ইগো, যিনি সাধারণত বেশি সংযত স্বভাবের অধিকারী। এই দ্বৈত পরিচয় তাকে মঞ্চে আরও স্বতন্ত্র ও বোল্ড প্রকাশের সুযোগ দেয়।
বিবিসির সাথে একটি সাক্ষাৎকারে রোয়ান তার সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং শিল্পে আত্মপ্রকাশের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, নিজের শারীরিক প্রকাশের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের সঙ্গে একটি নতুন সংলাপ গড়ে তুলতে চান।
সামগ্রিকভাবে, রোয়ানের গ্র্যামি রেডকার্পেটের উপস্থিতি ফ্যাশন, লিঙ্গ সমতা এবং শিল্পের সীমানা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা উসকে দিয়েছে। তার সাহসী পোশাক এবং সঙ্গীতের স্বীকৃতি উভয়ই আধুনিক পপ সংস্কৃতিতে তার প্রভাবকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।



