একটি জার্মান গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি করা (প্রোক্রাস্টিনেশন) স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়। গবেষণাটি জানুয়ারি ১৫ তারিখে জার্নাল অফ পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রাথমিক বয়সের দেরি করার প্রবণতা কীভাবে সময়ের সাথে বদলায় তা বিশ্লেষণ করেছে।
গবেষণাটি ২০০২ সালে শুরু হয় এবং প্রায় ৩,০০০ উচ্চ বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা প্রায় ১৫০টি স্কুলের প্রতিনিধিত্ব করে। অংশগ্রহণকারীরা প্রতি দুই থেকে চার বছর পরপর মোট আটটি রাউন্ডে প্রশ্নাবলী পূরণ করেছে; প্রশ্নাবলিতে ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য, শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফলাফল দেখায় যে, তরুণ বয়সে দেরি করা সাধারণ, তবে সময়ের সাথে সাথে অধিকাংশ মানুষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অভ্যাস কমিয়ে দেয়। গবেষকরা উল্লেখ করেন যে, দেরি করা সম্পূর্ণভাবে দূর করা কঠিন হতে পারে, তবে সক্রিয় পদক্ষেপের মাধ্যমে তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।
গবেষণার প্রধান বিশ্লেষক লিসা বয়লকে, টিউবিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেক্টর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মনোবিজ্ঞানী, বলেন যে দেরি করা শুধুমাত্র এক মুহূর্তের সমস্যাই নয়; এটি ব্যক্তির পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রারম্ভিক প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে এই অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ না করলে দুই দশক পরেও কাজের দক্ষতা ও সম্পর্কের মানে ক্ষতি হতে পারে।
অধিকাংশ পূর্ববর্তী গবেষণা স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষণ বা একক সময়ের ডেটার ওপর ভিত্তি করে ছিল, ফলে দেরি করার প্রবণতা কীভাবে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয় তা স্পষ্ট ছিল না। এই দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা সেই ফাঁক পূরণ করেছে এবং দেখিয়েছে যে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দেরি করার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবে কমে, যদিও কিছু ব্যক্তি পুরোপুরি তা ছাড়তে পারেন না।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেরি করার মাত্রা কমাতে স্ব-নিয়ন্ত্রণের কৌশল, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া, সামাজিক সমর্থন এবং পরিবেশগত উপাদানও প্রভাবশালী। উদাহরণস্বরূপ, যারা নিয়মিতভাবে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এবং ছোট ছোট লক্ষ্য স্থাপন করে, তারা দেরি করার প্রবণতা কমাতে বেশি সফল হয়।
বয়লকে উল্লেখ করেন যে, দেরি করা সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব না হলেও, সচেতন প্রচেষ্টা এবং কাঠামোগত পরিকল্পনা দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তিনি সুপারিশ করেন যে, তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা নিজের কাজের তালিকা লিখে রাখুক, সময়সীমা নির্ধারণ করুক এবং অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুক।
এই গবেষণার ফলাফল শিক্ষাবিদ, কর্মস্থল ব্যবস্থাপক এবং মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে। দেরি করা কমাতে সঠিক কৌশল গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ কমে।
সারসংক্ষেপে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি করা স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়, তবে সক্রিয় পদক্ষেপ না নিলে এই প্রবণতা দীর্ঘ সময়ের জন্য বজায় থাকতে পারে। তরুণদের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা গড়ে তোলা এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণের কৌশল অনুশীলন করা ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের ভিত্তি হতে পারে।
আপনার দৈনন্দিন রুটিনে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সময়সীমা মেনে চলা কি আপনার দেরি করার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে? নিজের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা আজই শুরু করুন।



