মেটা এবং তার মেসেজিং অ্যাপ WhatsApp-কে লক্ষ্য করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার কঠোর নোটিশ জারি করেছে। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে যে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের খেলাধুলা সহ্য করা হবে না। এই মন্তব্যগুলো মেটা কর্তৃক ২০২১ সালের গোপনীয়তা নীতি সংশোধনের ওপর আরোপিত জরিমানা আপিলের সময় প্রকাশিত হয়।
WhatsApp-এ ভারতীয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের সর্ববৃহৎ বাজার হিসেবে কাজ করে। এই বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তি মেটার বিজ্ঞাপন ও AI সেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয় উৎস। বিচারকরা বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করেন, যখন অ্যাপটি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ব্যবহারকারীরা কীভাবে স্বেচ্ছায় ডেটা শেয়ারিংয়ে সম্মতি দিতে পারে।
চিফ জাস্টিস সুর্য কান্ত উল্লেখ করেন, আপিল চলাকালীন মেটা ও WhatsApp কোনো তথ্য শেয়ার করতে পারবে না। তিনি যুক্তি দেন, ব্যবহারকারীদের কাছে গোপনীয়তা নীতি গ্রহণের বাস্তবিক কোনো বিকল্প নেই, ফলে তাদের সম্মতি প্রকৃত স্বেচ্ছা নয়। এই অবস্থায় আদালত কোনো তথ্যের বিনিময়কে অনুমোদন করবে না।
কান্ত বিচারক আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাস্তায় ফল বিক্রি করা গরিব নারী বা গৃহকর্মী কীভাবে তাদের ডেটা ব্যবহারের পদ্ধতি বুঝতে পারবে। তিনি WhatsApp-কে ‘প্রায় একচেটিয়া’ সেবা হিসেবে উল্লেখ করে, ব্যবহারকারীর তথ্যের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবকে সমালোচনা করেন।
অন্যান্য বিচারক, বিশেষ করে জয়মাল্যা বাগচি, ব্যবহারকারী ডেটার বাণিজ্যিক মূল্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আচরণগত ডেটা, যদিও অজ্ঞাত বা পৃথকভাবে সংরক্ষিত, তবু লক্ষ্যবস্তু বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়। তাই এমন ডেটার অর্থনৈতিক মূল্য বিচারাধীন।
সরকারের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, মেটা কেবল ডেটা সংগ্রহই নয়, তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে লাভ অর্জন করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, গোপনীয়তা নীতি লঙ্ঘন করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যকে বিজ্ঞাপন ও AI প্ল্যাটফর্মে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
মেটার আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেন, WhatsApp-এ প্রেরিত বার্তা শেষ-থেকে-শেষ এনক্রিপ্টেড, ফলে কোম্পানির নিজস্বেও সেগুলো দেখা যায় না। তারা যুক্তি দেন, আপিলের বিষয়বস্তু গোপনীয়তা নীতি ব্যবহারকারীর চ্যাট কন্টেন্টকে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করার অনুমতি দেয় না।
বিতর্কের মূল কারণ ২০২১ সালের গোপনীয়তা নীতির আপডেট, যেখানে ব্যবসায়িক বার্তা সেবার জন্য কিছু ডেটা মেটার সঙ্গে শেয়ার করার ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনটি ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া ডেটা শেয়ারিংয়ের উদ্বেগ উত্থাপন করে, ফলে মেটা উপর জরিমানা আরোপিত হয়।
ভারতে WhatsApp-এ এত বড় ব্যবহারকারী সংখ্যা মেটার বিজ্ঞাপন আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই মামলায় আদালতের কঠোর অবস্থান কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেলকে প্রভাবিত করতে পারে। ডেটা ব্যবহার ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী যদি কঠোরভাবে প্রয়োগ হয়, তবে মেটা তার আয় বৃদ্ধির কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সতর্কতা প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত, যে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা অধিকারকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। মামলাটি এখনও চলমান, তবে বিচারকের মন্তব্যগুলো ডেটা শেয়ারিং ও সম্মতি প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।



