পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কুইনডালাপ সমুদ্রতটে গত সপ্তাহে একটি পরিবার হঠাৎ সাগরে ধাক্কা খেয়ে আটকে যায়। ১৩ বছর বয়সী অস্টিন অ্যাপেলবি, তার মা জোয়ান, বড় ভাই বু (১২) এবং ছোট বোন গ্রেস (৮) একসাথে প্যাডলবোর্ড ও কায়াক দিয়ে নৈমিত্তিক ভ্রমণ করছিলেন। হঠাৎ তীব্র বাতাসের আঘাতে ওয়ার্ডস হারিয়ে তারা কয়েক কিলোমিটার দূরে সরে যায়, ফলে অস্টিনকে সাঁতার কেটে সাহায্য আনতে হয়।
পরিবারটি সমুদ্রের অগভীর জলে আনন্দের মুহূর্ত কাটাচ্ছিল, যখন হাওয়া তীব্র হয়ে ওঠে এবং প্যাডলবোর্ডের ওয়ার্ডস নষ্ট হয়ে যায়। জোয়ান ও তার সন্তানরা দু’টি প্যাডলবোর্ডে আটকে থাকলেও, হঠাৎ করে তারা সমুদ্রের প্রবাহে ধাক্কা খেয়ে আরও দূরে সরে যায়। অস্টিনের মা জানেন যে তারা তৎক্ষণাৎ সমুদ্রতটে ফিরে আসতে পারবে না, তাই তিনি অস্টিনকে ফিরে পাঠিয়ে সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দেন।
অস্টিন কায়াক নিয়ে সমুদ্রের দিকে পা বাড়ালেন, তবে কায়াকটি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানিতে ভরে যাচ্ছিল। মাঝপথে কায়াকটি উল্টে গেল, ওয়ার্ডস হারিয়ে গেল এবং অস্টিনকে এক হাতে প্যাডল করতে বাধ্য হলেন। তিনি কায়াকটি আবার চালু করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা আবার উল্টে গেল এবং তিনি পানির মধ্যে আটকে পড়লেন।
কয়েক ঘন্টার কঠিন সাঁতার কেটে অস্টিন অবশেষে সমুদ্রতটে পৌঁছালেন। তিনি জানতেন না যে তার মা, বু ও গ্রেস এখনও বেঁচে আছেন কিনা, কারণ তারা দুইটি প্যাডলবোর্ডে আটকে সাগরের মাঝখানে ভাসছিল। অস্টিনের মা জোয়ান, যিনি ৪৭ বছর বয়সী, তখনই ভয় পেয়ে বলেছিলেন যে তার ছেলে হয়তো বেঁচে থাকবে না।
অস্টিন সমুদ্রতটে পৌঁছানোর পর চার ঘণ্টা পরই পরিবারটি ১৪ কিলোমিটার (প্রায় ৮.৫ মাইল) দূরে সরে যাওয়া অবস্থায় রিসার্ভে বোটের দিকে অগ্রসর হয়। জোয়ান শেষ পর্যন্ত দূরে একটি রেসকিউ বোট দেখতে পান এবং জানেন যে অস্টিন নিরাপদে তীরে পৌঁছেছেন। বোটের সাহায্যে পরিবারটি ধীরে ধীরে সমুদ্রতটে ফিরে আসে।
বাঁচিয়ে নেওয়ার পর পরিবারটি শারীরিকভাবে কোনো গুরুতর আঘাত না পেয়ে, কেবল কিছুটা ক্লান্তি ও ব্যথা অনুভব করে। জোয়ান বলেন, “সবাই সুস্থ ও নিরাপদে ফিরে এসেছে, যদিও কিছুটা ব্যথা আছে, তবে কোনো আঘাত হয়নি।” অস্টিনও একই রকম অনুভূতি প্রকাশ করেন, তিনি বলেন যে তিনি নিজেকে নায়ক হিসেবে দেখেন না, বরং তিনি যা করতেই হবে তা করেছেন।
এই ঘটনা হঠাৎ পরিবর্তনশীল সমুদ্রের পরিবেশে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সমুদ্রের ঢেউ ও হাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে, ফলে অল্প সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যায়। বিশেষ করে তরুণদের সঙ্গে পরিবারিক ভ্রমণে যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা উচিত।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পর সমুদ্রতটে নিরাপত্তা নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে। তারা পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে সতর্ক করে বলছে যে, বাতাসের গতি বাড়লে তৎক্ষণাৎ সমুদ্র থেকে সরে যাওয়া এবং নিরাপদ স্থানে ফিরে আসা জরুরি। এছাড়া, প্যাডলবোর্ড ও কায়াকের মতো জলযান ব্যবহার করার সময় অতিরিক্ত ওয়ার্ডস ও ফ্লোটেশন ডিভাইস সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অস্টিনের দীর্ঘ সাঁতার ও তার পরিবারের বেঁচে থাকা গল্পটি স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে। যদিও তিনি নিজের কাজকে স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করেন, তবে তার সাহসিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বহু মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সমুদ্রের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হবে। পরিবারটি এখন নিরাপদে বাড়ি ফিরে গিয়েছে এবং তাদের অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।



