দুবাইতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে যুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ মঙ্গলবার একটি প্যানেল আলোচনায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি সামরিক সংঘাতের প্রয়োজন নেই বলে জোর দেন। তিনি তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই মন্তব্যটি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনার পুনরারম্ভের প্রেক্ষাপটে করা হয়।
সামিটের অংশগ্রহণকারীদের সামনে গারগাশ ইরান‑মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা ও অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বহু সংঘাতের পরেও এই অঞ্চল আরেকটি বিশাল যুদ্ধের ঝুঁকিতে নেই।
গারগাশের মতে, ইরানের উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা গড়ে তোলা। তিনি যুক্তি দেন, এমন একটি রাজনৈতিক ও ভূ‑কৌশলগত চুক্তি উভয় দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনার পুনরায় শুরু হওয়ার খবরও প্রকাশ পায়। গারগাশ উল্লেখ করেন, আগামী শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা পুনরায় মিটিং করবেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে ইরানের দিকে বড় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
যুক্ত আরব আমিরাতের সরকার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা ইরান‑মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংলাপকে সমর্থন করে। গারগাশের মতে, এই ধরনের সংলাপ না হলে অঞ্চলটি প্রতিদিন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হবে।
গারগাশ জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে তার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তিনি যুক্ত করেন, ইরানের স্বার্থে একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি অর্জন করা হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য উপকারী হবে।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অংশ নেবেন। বৈঠকে সৌদি আরব ও মিশরের মতো আঞ্চলিক শক্তির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের পর, মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়া হলেও, ট্রাম্প পরে তা বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকেন।
তবে ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য চাপ বাড়িয়ে চলেছে। তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক প্রোগ্রাম সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গারগাশের এই মন্তব্য ও ইরান‑মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনার পুনরায় শুরু উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে যদি সরাসরি সংলাপ সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।



