22 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিদেশি কূটনীতিকরা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন

বিদেশি কূটনীতিকরা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন

ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি—বহু বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রধান ও জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনকৃত এই সফরটি দেশের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। জাদুঘরটি ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে ঘটিত গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে ঐ সময়ের নথি, ছবি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী প্রদর্শিত হয়।

মন্ত্রণালয় ঢাকা শহরের সব কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিসকে আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রণপত্রে জাদুঘরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে উপস্থিতি অনুরোধ করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার বিদেশি মিত্রদের সঙ্গে ঐতিহাসিক সংলাপের সেতু গড়তে চায়।

সেই অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, সিডিএ প্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা একত্রিত হন। উপস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানও সফরে অংশ নেন, যা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংযোগকে জোরদার করে।

পরিদর্শনের সময় কূটনীতিকদের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। দুজনেই সফরের সময় জাদুঘরের প্রদর্শনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং কূটনীতিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তৌহিদ হোসেন জাদুঘরের সংগ্রহের ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলেন, এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ। আসাদ আলম সিয়াম আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসের গভীরতা প্রকাশে জোর দেন।

জাদুঘরে প্রদর্শিত সামগ্রীগুলোর মধ্যে রয়েছে সেই সময়ের সংবাদপত্রের কপি, সরাসরি শুট করা ফটোগ্রাফ, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং সরকারী নথিপত্র। প্রতিটি প্রদর্শনী বস্তুকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহ প্যানেলে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে দর্শকরা ঐ সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ সহজে বুঝতে পারেন। সফরের সময় কূটনীতিকরা বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যক্তিগত গল্প ও সংগ্রামের প্রতীকী বস্তুগুলোর দিকে মনোযোগ দেন।

এই সফরের পূর্বে, ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। তার সফরটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে বিবেচিত হয়। ইউনূসের সফরের পর জাদুঘরের আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কভারেজ বাড়ে, যা আজকের কূটনৈতিক সফরের পটভূমি গঠন করে।

বিদেশি কূটনীতিকদের এই সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতি ও সংস্কৃতি প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাদুঘরের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের প্রতি আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। ভবিষ্যতে এমন ধরনের সাংস্কৃতিক সফর বাড়তে পারে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে এবং বিনিয়োগ, পর্যটন ও শিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সারসংক্ষেপে, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের এই সফরটি কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি কার্যকর মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রণালয় এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত হয়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments