৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের বিকেএমইএ ভবনে একটি সমাবেশের মাধ্যমে SCIP‑BKMEA যৌথ প্রশিক্ষণ প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে ৩৬২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। এই সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানটি তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা রেডি‑মেড গার্মেন্টস (RMG) খাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেছে।
SCIP‑BKMEA প্রোগ্রামটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষ কর্মী তৈরি করার লক্ষ্যে চালু করা হয় এবং আইএআরটি ঢাকা ও আইএআরটি নারায়ণগঞ্জে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণকালে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও শিল্পের মানদণ্ড সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে, যা সরাসরি উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে সহায়তা করে।
প্রশিক্ষণসূচিতে পাঁচটি মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপনা কোর্স অন্তর্ভুক্ত ছিল: অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, প্রোডাকশন প্ল্যানিং ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, সোশ্যাল ও এনভায়রনমেন্টাল কমপ্লায়েন্স ফর আরএমজি, অ্যাডভান্সড গার্মেন্টস প্রোডাকশন ও লিন ম্যানেজমেন্ট, এবং ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট। প্রতিটি কোর্স তিন মাসের সময়কালে আইএআরটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের তিনটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে মোট ৩৬২ জন অংশগ্রহণকারী সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে। এই সনদগুলো SCIP ও বিকেএমইএ উভয়ের স্বীকৃত, যা প্রশিক্ষণার্থীদের পেশাগত প্রোফাইলে মূল্য সংযোজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে SCIP এর অতিরিক্ত সচিব ও এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত সচিব (ডিইপিডি‑প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট) মো. মাহফুজুল আলম খান, উপসচিব (ইপিডি‑প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট) ড. মো. মতিউর রহমান এবং উপসচিব (ইপিডি‑প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট) মৌরীন করিম উপস্থিত ছিলেন।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন, আর বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিকেএমইএ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ, যিনি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য এবং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতা শিল্পে কীভাবে প্রয়োগ হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণকালে অংশগ্রহণকারী একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ম্যানেজার উল্লেখ করেন যে, প্রোডাকশন প্ল্যানিং ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট কোর্সের মাধ্যমে উৎপাদন সময়সূচি পুনর্গঠন করে অতিরিক্ত কাজের সময় কমানো সম্ভব হয়েছে। যদিও সরাসরি উদ্ধৃতি না দিয়ে, এই উদাহরণটি প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক প্রভাবকে তুলে ধরে।
এই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রকল্পের লক্ষ্য হল বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যা মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত হয়। দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে রপ্তানি ক্ষমতা বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
আপনি যদি গার্মেন্টস খাতে কর্মরত হন এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ খুঁজছেন, তবে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপনা কোর্সে ভর্তি হওয়া একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। এ ধরনের কোর্স আপনার পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়ে দেয় এবং শিল্পের মানদণ্ডে সমন্বয় সাধনে সহায়তা করে।



