দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের গ্যাংহোয়ামুন স্কোয়ারে ২১ মার্চ রাত ৮টায় বিটিএসের প্রথম পুনরাগমন পারফরম্যান্স নেটফ্লিক্সে সরাসরি সম্প্রচার হবে। এই অনুষ্ঠানটি গ্রুপের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশের উদযাপন হিসেবে পরিকল্পিত। অ্যালবামটি ২০ মার্চ বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হবে, ফলে শোটি অ্যালবাম রিলিজের ঠিক পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে।
গ্যাংহোয়ামুন স্কোয়ারের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং সিউলের প্রতীকী দৃশ্যপট শোকে ভিজ্যুয়ালি সমৃদ্ধ করবে। নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভক্তরা একই সময়ে লাইভ দেখতে পারবেন, যা বিটিএসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গ্লোবাল লাইভ স্ট্রিম।
অ্যালবাম ‘আরিরাং’ বিটিএসের পঞ্চম স্টুডিও রেকর্ড, যা গ্রুপের দীর্ঘ সময়ের পরের সঙ্গীতিক রূপান্তরকে চিহ্নিত করে। অ্যালবামটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে উচ্চ স্থান অর্জনের পূর্বাভাস রয়েছে।
শোয়ের পর ২৭ মার্চ নেটফ্লিক্সে ‘বিটিএস: দ্য রিটার্ন’ শিরোনামের ডকুমেন্টারি প্রকাশিত হবে। এই চলচ্চিত্রটি গ্রুপের সামরিক সেবা শেষ করার পরের পুনরায় একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনিষ্ঠভাবে তুলে ধরবে। ডকুমেন্টারিতে ব্যাকস্টেজ দৃশ্য এবং সদস্যদের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নেটফ্লিক্স এবং বিটিএসের রেকর্ড লেবেল হাইবের মধ্যে এই সহযোগিতা অ্যালবাম প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব ট্যুরের ঘোষণা দিয়েছে। ট্যুরটি ৩৪টি শহরে মোট ৮২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, যা বহু মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত।
ট্যুরের সূচিতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রুপের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা প্রতিফলিত করে। ট্যুরের মাধ্যমে বিটিএসের সব সাতজন সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জুংকুক—একই মঞ্চে পুনরায় পারফর্ম করবেন।
২০১৯ সালের পর থেকে বিটিএস কোনো আন্তর্জাতিক কনসার্টে অংশগ্রহণ করেনি, তাই এই ট্যুরটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পূর্বে তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে কোনো পারফরম্যান্স করেনি।
২০২২ সালে গ্রুপের হাইব্রিড হায়ারার্কি হঠাৎ থেমে যাওয়ার পর, প্রতিটি সদস্য আলাদা আলাদা সলো অ্যালবাম ও ট্যুরে ব্যস্ত ছিলেন। জিনের সোলো অ্যালবাম, সুগার র্যাপ প্রকল্প এবং জে-হোপের ড্যান্স পারফরম্যান্স ইত্যাদি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
সকল সদস্যের সামরিক সেবা শেষ হওয়ার পর জুন মাসে গ্রুপের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এই সময়ে তারা নতুন অ্যালবাম এবং ট্যুরের পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যা ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
নেটফ্লিক্সের বিবৃতি অনুযায়ী, এই লাইভ স্ট্রিম, ডকুমেন্টারি এবং বিস্তৃত ট্যুর একসঙ্গে বিটিএসের পুনরাগমনকে সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রূপান্তরিত করেছে।
বিশেষভাবে, ট্যুরের লন্ডন শোটি টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে ৬ ও ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে, যা ইউরোপীয় ভক্তদের জন্য প্রথম সরাসরি পারফরম্যান্স হবে।
বিটিএসের ভক্তগোষ্ঠী ‘আর্মি’ বিশ্বজুড়ে এই প্রত্যাশিত শো ও ডকুমেন্টারির জন্য অপেক্ষা করছে। নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে তারা একসাথে লাইভ দেখার সুযোগ পাবে, যা ভক্তদের সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে।
ডকুমেন্টারিতে সদস্যরা কীভাবে পুনরায় শুরু করবে, একসাথে কীভাবে অগ্রসর হবে ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে। তারা সন্দেহ, হাসি এবং পুনরাবিষ্কারের মুহূর্তগুলোকে সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।
এই সব উদ্যোগের সমন্বয়ে বিটিএসের নতুন সঙ্গীতের দিকনির্দেশনা গঠিত হবে, যা তাদের বর্তমান পরিচয়কে প্রতিফলিত করবে এবং সমসাময়িক সঙ্গীতের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



