প্রিমিয়ার লিগের ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ হয়েছে এবং প্রতিটি ক্লাবের কার্যক্রম এখন স্পষ্ট। আর্সেনাল, টটেনহ্যাম, নিউক্যাসল এবং অন্যান্য দল কীভাবে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, তা এই প্রতিবেদনে বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আর্সেনাল এই উইন্ডোতে বড় কোনো সাইনিং করতে পারেনি। মিকেল মেরিনোর পা আঘাতের কারণে শেষের দিনগুলোতে কিছু সম্ভাব্য নামের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল, তবে স্যান্ড্রো টোনালি (নিউক্যাসল) ও লিয়ন গোরেটজ্কার চুক্তি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। ১৮ বছর বয়সী স্কটল্যান্ডের ফরোয়ার্ড জেমস উইলসন টটেনহ্যামের হাতে চলে যায়, আর আর্সেনাল স্টক থেকে ইংল্যান্ডের আন্ডার-১৯ ডিফেন্ডার জেডেন ডিক্সনকে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া, ইথান এনওয়ানেরি মার্সেইলে ঋণাত্মকভাবে চলে গেছেন, যখন মিকেল আর্টেটা মেরিনোর দু’মাসের বেশি সময়ের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ক্লাবের একমাত্র প্রস্থান হল ওলেক্সান্ডার জিনচেনকো, যাকে এজাক্সে £১.৩ মিলিয়নে বিক্রি করা হয়েছে।
অ্যাসটন ভিলার ট্রান্সফার কার্যক্রমে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। দোনিয়েল মালেন ও ইভান গেসস্যান্ডের প্রস্থান সত্ত্বেও, ট্যামি আব্রাহামকে স্থায়ী চুক্তিতে নিয়ে আসা ভিলার আক্রমণকে শক্তিশালী করেছে। এছাড়া, গ্রেমিয়োর তরুণ আলিসনকে £১০.৫ মিলিয়নে অর্জন করা হয়েছে, যা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত। বেসিকতাস থেকে ট্যামি আব্রাহামকে £১৮.৩ মিলিয়নে, মেটজ থেকে ব্রায়ান মাদজোকে £১০ মিলিয়নে এবং ইয়ুভেন্তুস থেকে ডগলাস লুইজকে ঋণাত্মকভাবে নিয়ে আসা মিডফিল্ডের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। ইভান গেসস্যান্ডের প্রস্থানও উল্লেখযোগ্য, যদিও তার নতুন গন্তব্য স্পষ্ট নয়।
মিডলসব্রোর ক্ষেত্রে ফিনলি মুনরোর বিক্রয় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ২০ বছর বয়সী বাম-ব্যাক, যিনি ডিক্লান রাইসের চাচাতো ভাই, সুইন্ডনে ঋণাত্মকভাবে খেলা সময়ে হোলওয়ের প্রশংসা পেয়েছিলেন, তাকে মিডলসব্রোতে বিক্রি করা হয়েছে। হোলওয়ে তার পারফরম্যান্সকে “সম্ভবত আমার জীবনের সেরা ফুল-ব্যাক” বলে উল্লেখ করলেও, এই মন্তব্যের সূত্র প্রকাশ করা হয়নি।
নিউক্যাসল এবং টটেনহ্যাম উভয়ই শেষ মুহূর্তে কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিল, তবে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। নিউক্যাসল থেকে আর্সেনালের সঙ্গে টোনালির সম্ভাব্য লেনদেন শেষ পর্যন্ত অগ্রসর হয়নি, আর টটেনহ্যাম জেমস উইলসনকে অর্জন করে আক্রমণকে শক্তিশালী করেছে।
ইয়ুভেন্তুসের ক্ষেত্রে, ডগলাস লুইজের ঋণাত্মক চুক্তি ভিলার জন্য একটি বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। লুইজের ফিরে আসা মিডফিল্ডে অভিজ্ঞতা যোগ করবে এবং দলের গতি বাড়াবে।
মেটজের তরুণ প্রতিভা আলিসন, যিনি গত বছর ১৬ বছর বয়সে মেটজের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ডেবিউট্যান হয়ে ছিলেন, এখন ভিলার সঙ্গে যুক্ত। তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ক্লাবের স্কাউট অ্যালবের্তো বেনিতো ইতিমধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার লিগের বেশিরভাগ ক্লাব এই উইন্ডোতে বড় পরিবর্তন না করেও তাদের মূল কাঠামো বজায় রেখেছে। আর্সেনাল বড় সাইনিং মিস করেছে, তবে জেডেন ডিক্সনকে যুক্ত করেছে। ভিলা নতুন স্ট্রাইকার এবং মিডফিল্ডার নিয়ে শক্তিশালী হয়েছে, আর মিডলসব্রো গুরুত্বপূর্ণ বাম-ব্যাক বিক্রি করেছে। নিউক্যাসল ও টটেনহ্যাম শেষ মুহূর্তে কিছু সম্ভাবনা অনুসন্ধান করলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এই ট্রান্সফার পরবর্তী মৌসুমে দলগুলোর পারফরম্যান্স কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনই দেখা বাকি।



