মহাত্মা গান্ধীর ৪২৬ কেজি ওজনের বিশাল ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত ভারতীয় কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে চুরি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হওয়ার পরই তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু হয়। ভাস্কর্যটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে পরিচিত এবং তার চিত্রায়ণ স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের গর্বের প্রতীক ছিল।
এই ভাস্কর্যটি দিল্লির ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। উপহারের উদ্দেশ্য ছিল দু’দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করা এবং ভারতীয় ঐতিহ্যকে বিদেশে প্রচার করা। ভাস্কর্যের নকশা ও নির্মাণে স্থানীয় শিল্পী ও ভারতীয় শিল্পীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছিল।
ভাস্কর্যটি ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রি স্কট মরিসন উপস্থিত ছিলেন এমন এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হয়। উন্মোচনের ঠিক এক দিন পরই ভাস্কর্যটির উপর অজানা ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষতি করা হয়, যা স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি ঘটিত চুরির সময় সন্দেহভাজনরা সাদা রঙের একটি ভ্যান ব্যবহার করে ভাস্কর্যটি কেটে নিয়ে যায়। চুরির সময় তাদের মুখে কাপড় মোড়ানো ছিল, ফলে পরিচয় নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভাস্কর্যের বড় অংশ কেটে নেওয়ার পর তা দ্রুত গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় ব্রোঞ্জ ব্যবসায়ীদের সতর্কতা জানায়। তারা যদি কোনো অচেনা ব্যক্তি থেকে ব্রোঞ্জের কোনো অংশ কিনতে চায়, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা চুরির পরবর্তী ধাপগুলো অনুসন্ধানে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভাস্কর্যটির সিসিটিভি ক্যামেরা কিছু অংশে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করেছে। ইন্ডিয়ান কমিউনিটি চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কমিটি সদস্য সান্তোস কুমার জানান, ক্যামেরা পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করতে পারেনি, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধরা পড়েছে এবং তা পরের দিনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
পুলিশ এখনো পুরো চিত্রটি পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে এবং ক্যামেরা রেকর্ডিংয়ের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, তারা স্থানীয় ব্রোঞ্জ বিক্রেতা ও ধাতু পুনর্বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য সরবরাহের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এই ধরণের ধাতু চুরি হলে পুনরায় বিক্রির চ্যানেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়।
অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুসারে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী বস্তু চুরি ও ধ্বংসের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধে চুরি, সম্পত্তি ধ্বংস এবং সাংস্কৃতিক সম্পদ অবমাননা ইত্যাদি আইনি ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পটভূমিতে অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারতবিরোধী মনোভাবের বৃদ্ধি উল্লেখ করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক এই ঘটনাকে বৃহত্তর সামাজিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখছেন, যদিও চুরি নিজেই কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না।
এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশ তাদের চেহারা ও গাড়ির রঙ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তে সহায়তা করতে ইচ্ছুক যে কোনো নাগরিককে তথ্য প্রদান করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
অধিক তদন্তের পর, মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং চুরির শিকার ভাস্কর্যের পুনরুদ্ধার বা পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায় এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে।



