হরদীপ সিং পুরি এবং জেফ্রি এপস্টেইনের মধ্যে ২০১৪ সালের জুনে ই‑মেইল বিনিময় প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, যেখানে এপস্টেইন ভারতের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং পুরি ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে এপস্টেইনকে ভারত সফরে উৎসাহিত করেন। একই নথিতে নরওয়ের কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেনের ২০১৫ সালের এক ই‑মেইলে ভারত ও সাপের তুলনা করে ‘প্রথমে ভারতীয়কে মারো’ এমন বর্ণবাদী মন্তব্য রয়েছে।
রোড-লারসেনের ই‑মেইলটি প্রকাশের পর ভারতীয় নেটিজেনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত জঘন্য’ ও ‘বিকৃত রুচি’ বলে সমালোচনা করেন এবং এ ধরনের মন্তব্যকে ভারতীয়দের প্রতি ঘৃণার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এপস্টেইন নথিতে হরদীপ সিং পুরির নামও বহুবার উল্লেখিত, যিনি ২০১৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসর নিয়ে মোদির দল বিজেপিতে যোগ দেন। পুরি ২০১৪ সালের জুনে এপস্টেইন ও লিংকডইনের সহ‑প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের সঙ্গে ভারত সফর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
পুরি এপস্টেইনকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে জানাতে এবং রিড হফম্যানকে ভারত সফরের জন্য উৎসাহিত করতে ই‑মেইলে বিশদ তথ্য শেয়ার করেন। তিনি মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলো তুলে ধরে হফম্যানের আগ্রহ জাগাতে চেষ্টা করেন।
নথি অনুসারে, হরদীপ সিং পুরি ২০০৮ সালের যৌন অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসভবনে তিনবার গেছেন। প্রথমবারের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, দ্বিতীয়বার ৬ জানুয়ারি ২০১৬ এবং তৃতীয়বার ১৯ মে ২০১৭।
পুরি এই সফরগুলোকে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার সব যোগাযোগকে বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইন ব্যক্তিগত ই‑মেইলে ভারতের প্রতি ‘নোংরা’, ‘গরম, বিষ্ঠার মতো গন্ধ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে তীব্র অপমান করেন।
২০১৪ সালের এক ই‑মেইলে এপস্টেইন স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ‘আমি ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখতে চাই না’। তিনি ভারতের ‘নোংরা’ এবং ‘ভীষণ গন্ধযুক্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার দেশের প্রতি তীব্র বিরূপতা প্রকাশ করে।
এপস্টেইনের একই রকম মনোভাব ২০১২ সালের একটি ই‑মেইলে বিল গেটসের প্রাক্তন বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের সঙ্গে বিনিময়েও প্রকাশ পায়। নিকোলিক দিল্লি ও পুনে শহরের অবস্থা ‘নোংরা’ ও ‘মধ্যবর্তী কোথাও নয়’ বলে উল্লেখ করেন, যা এপস্টেইনের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে।
এই প্রকাশনাগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীরা হরদীপ সিং পুরির ওপর তদন্তের দাবি তোলেন। সরকারী কর্মকর্তার এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং মোদির দলকে এই বিষয়টি কীভাবে সামলাবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বিপুল জনমত গঠনকারী গোষ্ঠী এপস্টেইনের ঘৃণামূলক মন্তব্যের ভিত্তিতে ভারতের আন্তর্জাতিক চিত্রের ক্ষতি এবং বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাবের উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিশেষ করে, এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট উত্তর দিতে বলা হচ্ছে।
বর্তমানে এপস্টেইনের নথি ও ই‑মেইলগুলো আইনগত তদন্তের অধীন এবং হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার সংযোগের ওপর আরও বিশ্লেষণ চলমান। এই বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র নীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



