মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামি ও ১১ দলীয় ঐক্য জোটের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের মহানগর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সামনে ভোটের ধারা পরিবর্তনের লক্ষণীয় প্রবণতা তুলে ধরেন এবং পার্টির প্রার্থী কামরুল ইনলাম ইমরুলের সমর্থনে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, প্রথমে কিছু সমর্থক ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করলেও, জনতার উচ্ছ্বাস ও তরঙ্গের প্রভাব দেখে এখন অধিকাংশই ধীরে ধীরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের দিকে ঝুঁকছে। তিনি ‘বাবাজি’ নামে পরিচিত ঠেলাকে জনগণের শক্তিশালী ঠেলা হিসেবে বর্ণনা করে, এটিকে সাগরের বিশাল ঢেউ থামিয়ে দিতে সক্ষম এমন শক্তি হিসেবে তুলনা করেন।
বক্তৃতায় তিনি ৫৪ বছরের পুরনো পচা রাজনীতির অবসান দাবি করেন এবং জনগণকে নতুন, ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে বলেন। তিনি বলেন, পরিবার, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীভিত্তিক স্বার্থের রাজনীতি আর চায় না; দলীয় শাসনের বদলে স্বচ্ছ ও সেবা ভিত্তিক সরকারই জনগণের প্রত্যাশা।
ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে তুলে ধরে বলেন, দেশটি সবুজ শ্যামল মাটিতে সমৃদ্ধ, মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী এবং ভূগর্ভস্থ ও জলের নিচে প্রচুর সম্পদ লুকিয়ে আছে। তবুও স্বাধীনতার পর দুইবার (১৯৪৭ ও ১৯৭১) স্বাধীনতা অর্জনের পরও দীর্ঘ ৭৭ বছর ধরে দেশটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়াতে সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজন, যা বর্তমানে অনুপস্থিত।
অবৈধ নেতৃত্বের কারণে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তাদের কিসমত নষ্ট করার অভিযোগে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান শাসকদের দায়িত্বকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থা দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করেছে এবং দেশের পরিচয়কে লজ্জার মুখে ফেলেছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে তিনি ১১ দলীয় জোটের মধ্যে, বিশেষ করে জামায়াত-এ-ইসলামির সরকারে আসলে জনগণ নিরাপদ থাকবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বর্তমান সরকারের ‘মাঘ মাসে মাথা খারাপ’ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে, শীঘ্রই চৈত্র মাসে কী ঘটবে তা আল্লাহর হাতে রেখে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের শেষাংশে তিনি একটি সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরেন। জুলাই ১৫ তারিখে ঘটিত এক দুঃখজনক ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই দিন মায়ের ইজ্জতে আঘাত হানার মতো কাজ করা হয়েছিল, যা সারা দেশে শোকের স্রোত তৈরি করেছিল। তিনি এ ঘটনার শিকার মায়েদের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে এবং আর কোনো অনুরূপ ঘটনা না ঘটতে সতর্ক করেন।
এই জনসভা শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত দেখা যায়, যারা জামায়াত-এ-ইসলামির নীতি ও লক্ষ্যকে সমর্থন করার সংকল্প প্রকাশ করে। একই সময়ে, বিরোধী দলগুলিও তাদের নিজস্ব ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তৃতা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে জামায়াত-এ-ইসলামির নেতৃত্বের এই দৃঢ় অবস্থান এবং জনগণের পরিবর্তনশীল মনোভাব নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। পার্টি ও জোটের সমন্বিত প্রচেষ্টা, পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা, দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।



