বিএনপি আজ গুলশানের নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে, গত এক সপ্তাহে চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন উল্লেখ করেন, এই তথ্যগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা ফ্যাসিস্ট সময়ের মতই ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করছে।
মাহদি আমিনের মতে, একই রকম ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে বিরোধীরা পূর্বে ব্যবহৃত কৌশল পুনরায় চালু করেছে, যা তিনি ‘ভ্রান্তি সৃষ্টির পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও জানান, তারেকের সাম্প্রতিক খুলনা ও যশোর সফর বিশাল জনসমাগমের সাক্ষী হয়েছে; সেখানে পার্টির নেতা, কর্মী, সমর্থক, ভোটার এবং সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে পাঁইয়ের গাঁথা প্রতীককে উত্সাহের ঢেউ হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিএনপি দাবি করে, এই জনসাধারণের উত্সাহে বিরোধীরা ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনী প্রতিযোগিতা ত্যাগ করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছে।
মাহদি আমিন জানান, তারেকের নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে তিনি আগামীকাল বরিশাল ও ফরিদপুরে গমন করবেন।
সূচি অনুযায়ী, তিনি সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে বরিশালে উড়ে পৌঁছাবেন, দুপুর ১২টায় বেলস পার্ক মাঠে র্যালি করবেন, এরপর ১টায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরে রওনা হবেন এবং ১:৪৫টায় রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আরেকটি র্যালি অনুষ্ঠিত হবে, তারপরে ঢাকা ফিরে আসবেন।
বিএনপি আরও জানায়, পুরো নির্বাচনী সফরের বিস্তারিত সময়সূচি শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
অধিকন্তু, দলটি নির্বাচন কমিশনের ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (বিএনসিসি) ক্যাডেটদের নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিএনপি উল্লেখ করে, বেশিরভাগ বিএনসিসি ক্যাডেট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, যারা রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তাই তাদেরকে নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যবহার করা ন্যায়সঙ্গত নয় বলে দলটি দাবি করে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, নির্বাচনী সময়ে তথ্যের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য, এবং উভয় পক্ষেরই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বিএনপি ও তারেকের নির্বাচনী সফর অব্যাহত থাকায়, আসন্ন ভোটের পরিবেশে তথ্যের গুণগত মান ও নির্বাচনী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।



