22 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচাঁদপুরে বিএসটিআই মোবাইল কোর্টে বেকারিকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা

চাঁদপুরে বিএসটিআই মোবাইল কোর্টে বেকারিকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই কুমিল্লা অফিসের যৌথ উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে মোহাম্মদিয়া বেকারিকে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৭ অনুযায়ী ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল লাইসেন্স ছাড়া বিস্কুট, কেক ও রুটি পণ্যের প্যাকেজে বিএসটিআই মানচিহ্ন ব্যবহার এবং প্যাকেজিং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য মিথ্যা প্রদান।

মোবাইল কোর্টের অধিক্ষেত্র ছিল ফরিদগঞ্জের মোহাম্মদিয়া বেকারি, যা স্থানীয় বাজারে বিস্কুট ও রুটি বিক্রির জন্য পরিচিত। আদালতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস শাহাদাত ফাহিম, যিনি মামলাটির শোনানির দায়িত্বে ছিলেন। মামলায় প্রোsecutor হিসেবে বিএসটিআই কুমিল্লা অফিসের প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম শাকিল (ফিল্ড অফিসার, সিএম), এস. এম. শাকিল ইউসুফ (ফিল্ড অফিসার) এবং শামস তাবরেজ (পরিদর্শক, মেট্রোলজি) উপস্থিত ছিলেন।

বিএসটিআই কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসারে, প্যাকেজিংয়ে মানচিহ্ন ব্যবহার করতে হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য বৈধ লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন থাকতে হয়। মোহাম্মদিয়া বেকারির প্যাকেজে বিএসটিআই লোগো দেখা গিয়েছিল, যদিও তাদের কোনো অনুমোদিত লাইসেন্স ফাইল না থাকায় তা বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত হয়। তদুপরি, প্যাকেজে উল্লেখিত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও তারিখের তথ্যও বাস্তবের সঙ্গে মেলে না বলে তদন্তে মিথ্যা তথ্য পাওয়া যায়।

এই ধরনের লঙ্ঘন স্থানীয় উৎপাদনকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। প্যাকেজিং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা, পণ্য আটকে রাখা বা বাজার থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের বেকারি, যারা প্রায়শই সীমিত আর্থিক সম্পদে পরিচালনা করে, তাদের জন্য অতিরিক্ত লাইসেন্স ফি ও রেজিস্ট্রেশন খরচ একটি উল্লেখযোগ্য ব্যয় হতে পারে।

অন্যদিকে, গ্রাহকের দৃষ্টিকোণ থেকে প্যাকেজে মানচিহ্নের সঠিক ব্যবহার ভোক্তা আস্থা বাড়ায়। বিএসটিআই লোগো মানে পণ্যটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করেছে, যা নিরাপত্তা ও গুণগত মানের নিশ্চয়তা দেয়। যখন কোনো প্রতিষ্ঠান এই চিহ্নকে অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করে, তখন বাজারে সামগ্রিক বিশ্বাসের ক্ষতি হয় এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বৈধ ব্যবসাগুলোকে অপ্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় ফেলে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যাকেজিং মানদণ্ডের কঠোরতা বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচে প্রায় ৩-৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই খরচের কিছু অংশ গ্রাহকের জন্য উচ্চ মূল্যে প্রতিফলিত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে মানসম্পন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ার ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানদণ্ড মেনে চলা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। তাই, এই ধরনের জরিমানা ক্ষুদ্র উৎপাদনকারীদের জন্য আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে তারা মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত হবে।

বিএসটিআইয়ের এই মোবাইল কোর্ট অভিযান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো প্যাকেজিং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে সহজতর করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ সেমিনার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা এই সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, চাঁদপুরে এই জরিমানা স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত যে, প্যাকেজিং মানদণ্ডের লঙ্ঘন আর সহ্য করা যাবে না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে, নতুবা আর্থিক শাস্তি ও বাজারে সুনামের ক্ষতি ভোগ করতে হবে। ভবিষ্যতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও কঠোর শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পণ্য মানের উন্নতি ও ভোক্তা আস্থা বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments