কম্পোজার-গায়ক অমাল মাল্লিক বলিউড গানের আর্থিক কাঠামোর অস্বচ্ছতা ও শিল্পীর পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত বাজারে আয় ও শিল্পীর উপার্জনের মধ্যে বিশাল ফাঁক রয়েছে। এই বিষয়টি শিল্পের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারটি একটি অনলাইন বিনোদন পোর্টালের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। অমাল মাল্লিক তার ক্যারিয়ারের অন্যতম হিট ‘সুর্য দোবা হ্যাই’ গানের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। গানটি ২০১৪ সালের ‘রয়’ চলচ্চিত্রের অংশ হিসেবে মুক্তি পায় এবং দ্রুতই শীর্ষে উঠে আসে।
‘সুর্য দোবা হ্যাই’ গানের লেবেল আয় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে অমাল মাল্লিক জানান, তিনি এই আয়ের কোনো সরাসরি অংশ পাননি। তার একমাত্র লাভ ছিল প্রকাশনা অধিকার, যা এক কোটি টাকার কাছাকাছি নয়।
প্রকাশনা অধিকার থেকে প্রাপ্ত আয়কে তিনি নগণ্য বলে উল্লেখ করেন, যা শিল্পীর স্বার্থ রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঙ্গীতের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে যথাযথ অধিকার না পেলে আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন কঠিন।
অমাল মাল্লিকের মতে, সঠিক অধিকার ছাড়া শিল্পী সমাজে অবদান রাখলেও তার মুনাফা ভাগাভাগি করা হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, নিজের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হলে সৃষ্টিকর্তার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
বহু বছর ধরে হিট গানের স্রষ্টা হওয়া সত্ত্বেও অমাল মাল্লিকের ব্যক্তিগত আর্থিক স্থিতি দেরিতে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ষোলো বছর পরই নিজে একটি গাড়ি কেনার সুযোগ পেলেন। তার জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি অন্যের জন্য কাজ করে গেছেন, নিজের জন্য নয়।
দক্ষিণের চলচ্চিত্র শিল্পে একই ধরণের সঙ্গীতের জন্য কম্পোজাররা প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা উপার্জন করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধিকার বজায় রাখেন। অন্যদিকে বলিউডে কম্পোজারদের আয় সাধারণত ২ থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, এবং অধিকাংশ অধিকার লেবেলকে হস্তান্তর করতে হয়।
অমাল মাল্লিক শিল্পের কাঠামোকে একগুঁয়ে রৈখিক ধারা হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সৃষ্টিকর্তাদের স্বীকৃতি ও পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা ভিন্নভাবে গঠন করা যায় না।
কৃতিত্বের স্বচ্ছতা তার জন্য বিশেষ গুরুত্বের বিষয়। তিনি নিশ্চিত করেন যে, তার গানে কোনো সঙ্গীতশিল্পী বা গীতিকারকে বাদ দেওয়া কখনোই তার ইচ্ছা নয়। সবসময়ই যথাযথ ক্রেডিট প্রদান করার চেষ্টা করেন।
বিশ্বের অন্যান্য বাজারের তুলনায় বলিউডে ক্রেডিটিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা কম। অমাল মাল্লিক উল্লেখ করেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে গীতিকার ও সুরকারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যেখানে এখানে প্রায়শই গীতিকারদের নাম বাদ পড়ে।
এ ধরনের অবহেলার ফলে গীতিকারদের প্রকাশ্য প্রতিবাদে বাধ্য হতে হয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কিছু গীতিকার ভিডিও তৈরি করে তাদের সঠিক ক্রেডিটের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা শিল্পের স্বীকৃতি ব্যবস্থার সমস্যাকে আরও উন্মোচিত করেছে।
অমাল মাল্লিকের বক্তব্য শিল্পের নীতি ও আর্থিক কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সৃষ্টিকর্তাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং পারিশ্রমিকের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হবে। পাঠকরা এই আলোচনাকে অনুসরণ করে শিল্পের উন্নয়নে সমর্থন জানাতে পারেন।



