দিল্লি হাইকোর্ট ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সামীর ওয়াঙ্কহেডকে অনুমতি দেয়, যাতে তিনি নেটফ্লিক্স সিরিজ “দ্য বেডস অফ বলিভুড”‑এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলাটি মুম্বাইয়ের উপযুক্ত আদালতে এগিয়ে নিতে পারেন।
ওয়াঙ্কহেড, যিনি প্রাক্তন ভারতীয় রাজস্ব পরিষেবা কর্মকর্তা, মূলত দিল্লিতে দায়ের করা মামলায় দাবি করেন যে সিরিজের একটি চরিত্র তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তা তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।
সিরিজটি আরিয়ান খান পরিচালিত এবং রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ও নেটফ্লিক্সের সমন্বয়ে তৈরি, যেখানে প্রথম পর্বে একটি কাল্পনিক চরিত্রকে ওয়াঙ্কহেডের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি বিকাশ মহাজন সিভিল প্রসিডিউর কোডের অধীনে ওয়াঙ্কহেডের আবেদন মঞ্জুর করে, যাতে তিনি তার পিটিশন মুম্বাইয়ের সিটি সিভিল ও সেশনস কোর্ট, ডিন্ডোশিতে দাখিল করতে পারেন।
কোর্টের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দিল্লি হাইকোর্টের এই মামলায় ভূখণ্ডীয় অধিকার নেই, ফলে উভয় পক্ষকে ১২ ফেব্রুয়ারি মুম্বাই আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
ওয়াঙ্কহেডের মূল অভিযোগে বলা হয়েছে যে সিরিজের প্রথম পর্বে তার ভূমিকা নিয়ে কিছু দৃশ্য তার পেশাগত সাফল্যকে ভুলভাবে চিত্রিত করেছে, বিশেষ করে উচ্চপ্রোফাইল আইন প্রয়োগের বিষয়গুলোতে।
তিনি নির্দিষ্ট দৃশ্যের অপসারণ বা নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে এই চিত্রায়ন তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামকে ক্ষতি করেছে।
এই মামলাটি নেটফ্লিক্সের একটি স্যাটায়ারিক শো, যা ২০২১ সালের ক্রুজ শিপ ড্রাগস কেসে আরিয়ান খানকে অভিযুক্ত করা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার ওপর আলো ফেলেছে।
সিরিজটি বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে রচিত হলেও, এতে কাল্পনিক উপাদান যোগ করা হয়েছে, যা বাস্তব ব্যক্তিদের সুনাম রক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
পূর্বে দিল্লি হাইকোর্ট একই মামলায় ভূখণ্ডীয় অধিকার না থাকায় ওয়াঙ্কহেডের দায়ের প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে তিনি মুম্বাই আদালতে রূপান্তরের আবেদন করেন।
মুম্বাইয়ের সিটি সিভিল ও সেশনস কোর্টে মামলাটি শোনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষকে তাদের যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
এই রায়টি নেটফ্লিক্সের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্টের উপর আইনি চ্যালেঞ্জের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, বিশেষ করে যখন কল্পনা ও বাস্তব ঘটনার মিশ্রণ ঘটায়।
মামলার পরবর্তী ধাপের জন্য উভয় পক্ষকে প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে, এবং আদালতকে যথাযথ সময়সীমা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়টি বিনোদন শিল্পের সৃষ্টিকর্তা ও আইনগত পর্যালোচকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে স্যাটায়ারিক প্রকাশের সীমা ও ব্যক্তিগত সুনামের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।
মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ কন্টেন্টের জন্য কীভাবে আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



