22 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমুন্সীগঞ্জে নির্মাণাধীন মার্কেট দখলের সময় এক ব্যক্তি নিহত, আটজন আহত

মুন্সীগঞ্জে নির্মাণাধীন মার্কেট দখলের সময় এক ব্যক্তি নিহত, আটজন আহত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় মঙ্গলবার সকালবেলা বালাশুর বাজারে নির্মাণাধীন একটি মার্কেট দখল করার চেষ্টা চলাকালীন এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং অন্তত আটজন আহত হন। ঘটনাটি তমি মার্কেটের সামনের অংশে ঘটেছে, যেখানে জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় হান্নান হাজী, মানিক ও তাপসের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। দখল প্রচেষ্টার সময় প্রতিপক্ষের আক্রমণে ৫০ বছর বয়সী মো. আলমগীর নিহত হন।

শ্রীনগর থানার ওসি মো. জুয়েল মিঞা জানান, আলমগীর এবং তার ভাই তমিজউদ্দিন বালাশুর বাজারে একসাথে মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। তবে ওই জমির মালিকানা নিয়ে হান্নান হাজী, মানিক ও তাপস আদালতে দাবি করে মামলায় জয়লাভ করতে পারেননি, ফলে তারা নির্মাণাধীন কাঠামো দখল করার পরিকল্পনা করেন।

সকালবেলায় হান্নান ও মানিক তাদের সমর্থকদের সঙ্গে মার্কেট দখল করার জন্য উপস্থিত হন। আলমগীর এবং তার সহকর্মীরা বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হন; আলমগীরকে কুপিয়ে মারধর করা হয় এবং গুরুতর আঘাত পায়। একই সময়ে তার সহকর্মী তমিজউদ্দিনসহ অন্য কয়েকজনও আঘাতপ্রাপ্ত হন।

আহতদের মধ্যে তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তুষার (২৪) এবং আব্দুর রহমান (২৩) অন্তর্ভুক্ত, যারা সকলেই একই এলাকার বাসিন্দা। বাকি আহতদের নাম এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে হাসপাতাল গেটের সামনে আবার আলমগীরের ওপর আক্রমণ হয়, যার ফলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পরেও আলমগীরের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তায় অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। এই প্রতিবাদে ঢাকা-দোহার সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যান চলাচল থেমে যায়।

বিকাশের সময় হান্নান হাজীর মার্কেটের সামনে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, যা আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অবরোধ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে সড়কের দুই পাশে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাস্তায় গতি পুনরুদ্ধার হয় এবং অবরোধ শেষ হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওসি মো. জুয়েল মিঞা উল্লেখ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধই এই হিংসাত্মক ঘটনার মূল কারণ। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার প্রচেষ্টা চলছে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

পুলিশের মতে, হান্নান হাজী, মানিক ও তাপসের বিরুদ্ধে জমি দখল সংক্রান্ত মামলা এখনও আদালতে চলমান। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে স্থানীয় আদালতে জমি মালিকানা সংক্রান্ত মামলার শুনানি অব্যাহত থাকবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করবে। সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুনরায় এমন সংঘর্ষ রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments