নেপালে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল সাতটি ম্যাচের সবগুলোই জয়লাভ করে শিরোপা জিতেছে। টুর্নামেন্টের পুরো সময়ে দলটি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী ব্যাটিং দেখিয়েছে, যার ফলে ছয়টি ম্যাচে স্কোর ১৫০ রানের উপরে পৌঁছেছে। সর্বনিম্ন স্কোরও ১৪৪ রান সাত উইকেটের সঙ্গে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে অর্জিত হয়, যা তবুও প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক ছিল।
দলটির ব্যাটিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা কোচ ডেভিড হেম্পের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফলাফল বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। হেম্প বললেন, “ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই আমরা টুর্নামেন্ট জুড়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছি, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নতির ভিত্তি হবে।” তিনি আরও জানান, “প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বতন্ত্র শক্তি অনুযায়ী ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেমন আক্রমণাত্মক ওপেনার ডোলা এবং অন্যান্য অবস্থানে থাকা খেলোয়াড়রা। ১২০ বল মানে ১২০ স্কোরিং সুযোগ, এটাই আমাদের মানসিকতা ছিল এবং খেলোয়াড়রা তা মেনে চলেছে।”
হেম্পের মতে, শুধুমাত্র সীমা পার করা নয়, উইকেটের মধ্যে দ্রুত দৌড় এবং আক্রমণাত্মক শটের সময় শটের গঠন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি যোগ করেন, “খেলোয়াড়রা নিজেদেরকে এই শৈলীর জন্য দায়িত্বশীল করেছে, ফলে দুই সপ্তাহের এই সফলতা কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড় উভয়ের জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সকারী হিসেবে সোবহানা মোস্তারিকে ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। হেম্প মন্তব্য করেন, “সোবহানা এই টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে উঠেছে এবং তার উন্নতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।” তার ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক খেলা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গেম জয় করতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এই জয়ের মাধ্যমে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং পরবর্তী প্রস্তুতি শুরু করেছে। কোচিং স্টাফ বলছে, “এখন থেকে আমরা বিশ্বকাপের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা ও শারীরিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেব, যাতে টুর্নামেন্টে আবারও শীর্ষে পৌঁছাতে পারি।” দলটি আগামী মাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি সেশনের সূচি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে নতুন কৌশল ও খেলোয়াড়দের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে।



