27 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeব্যবসালেবুর দাম দ্বিগুণ, অর্ধডজনের দাম ৫০‑৮০ টাকা, রোজা শুরুর আগে বাজারে চাপ

লেবুর দাম দ্বিগুণ, অর্ধডজনের দাম ৫০‑৮০ টাকা, রোজা শুরুর আগে বাজারে চাপ

রমজান মাসের আগমন এই মাসে, তবে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে লেবুর দাম দ্রুত বাড়ছে। পূর্বে এক ডজন লেবু যেখানে ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যেত, এখন একই মূল্যে মাত্র অর্ধডজন লেবু কেনা সম্ভব। বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধডজনের দাম বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে সস্তা লেবুর একক দাম প্রায় ১২ টাকায় ৫০ পয়সা। একই সময়ে শসার দাম কেজি প্রতি ৭০‑৮০ টাকার মধ্যে স্থিত, ফলে দুটো পণ্যের ক্রেতা সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনের প্রতিবেদক রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, শেখেরটেক, আশকোনা ও কারওয়ান বাজার পরিদর্শন করে এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করেন। বিক্রেতারা জানান, গত দুই সপ্তাহ থেকে লেবু ও শসার দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। রোজা মাসে ইফতারে লেবুর শরবত অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়, তবে দাম বাড়ার ফলে ভোগের পরিমাণ কমতে পারে।

শেখেরটেকের গৃহিণী রাশিদা খাতুন গত সপ্তাহের শুরুর দিকে অর্ধডজন লেবু ৩০ টাকায় কিনেছিলেন, কিন্তু আজ বাজারে একই পরিমাণের দাম ৭০ টাকার কাছাকাছি। তিনি ৫০ টাকায় লেবু পাওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্রেতা তা মেনে নেননি, ফলে তিনি আর লেবু ক্রয় থেকে বিরত রয়েছেন। এই উদাহরণটি দেখায় যে দাম বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের ক্রয় সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

শেখেরটেকের ৪ নম্বর সড়কের এক খুচরা বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি আজ সকালে কারওয়ান বাজার থেকে ২,০০০ টাকায় ২০০টি লেবু সংগ্রহ করেছেন, যার ফলে একটি লেবুর দাম ১২ টাকায় ৫০ পয়সা। তিনি অর্ধডজন লেবু ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন, যার মধ্যে ১০ টাকার লাভ রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন আকারের লেবু পাওয়া যায়; ছোট লেবুর অর্ধডজনের দাম প্রায় ৫০ টাকা, আর বড় লেবুর দাম ৭০‑৮০ টাকার মধ্যে। বেশিরভাগ ক্রেতা দাম নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে দর-কষাকষি করে, যা দাম নির্ধারণে অতিরিক্ত ভেরিয়েবল যোগ করে।

মোহাম্মদপুরের বিক্রেতা রুবেল হাওলাদার উল্লেখ করেন, দুই সপ্তাহ আগে অর্ধডজন লেবু ২০‑৩০ টাকায় বিক্রি হতো, তবে লেবুর মৌসুম শেষ হওয়ায় দাম বেড়েছে। বেশিরভাগ চাষী রোজা মাসে উচ্চমূল্য পাওয়ার আশায় লেবু বাজারে না আনা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন, ফলে সরবরাহের ঘাটতি দামকে ত্বরান্বিত করছে। বাজারে বর্তমানে লেবুর দাম হালিপ্রতি ৩০‑৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, লেবু ও শসার দাম বৃদ্ধির ফলে রোজা মৌসুমে খাদ্য ব্যয়ের অনুপাত বাড়বে। রোজা শুরুর আগে দাম এত দ্রুত বাড়া ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর জন্য। একই সঙ্গে, লেবুর সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাষীর প্রত্যাশিত উচ্চমূল্য বাজারে বিক্রয় দেরি করা সরবরাহ-চাহিদা ভারসাম্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রোজা মাসের মাঝামাঝি সময়ে লেবুর চাহিদা শীর্ষে পৌঁছাবে, ফলে দাম সাময়িকভাবে স্থিতিশীল হতে পারে বা সামান্য কমতে পারে, যদি চাষীরা বাজারে পণ্য সরবরাহ শুরু করে। তবে শসার মতো অন্যান্য সবজি এখনও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে, যা সামগ্রিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়াবে।

সারসংক্ষেপে, রোজা শুরুর আগে লেবু ও শসার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারের সরবরাহ-চাহিদা গতিবিধিকে প্রভাবিত করছে। দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহক ও বিক্রেতা উভয়েরই দর-কষাকষি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, এবং রোজা শেষে চাষীর বিক্রয় কৌশল বাজারের দামের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments