27 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাইনফ্যান্টিনো রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রী কঠোর সমালোচনা

ইনফ্যান্টিনো রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রী কঠোর সমালোচনা

ফিফা সভাপতি গিয়ানি ইনফ্যান্টিনো রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত প্রকাশের পর ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রী মাতভি বিডনি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ইনফ্যান্টিনোর মন্তব্যকে দায়িত্বহীন ও শৈশবিক বলে উল্লেখ করে, বর্তমান যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে ফুটবলকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের পর ফিফা ও ইউইএফএ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে সকল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ ছিল।

ইনফ্যান্টিনো সম্প্রতি জানিয়েছেন, “এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফলপ্রসূ কাজ করেনি, বরং আরও বেশি হতাশা ও ঘৃণা সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাশিয়ার ছেলেমেয়েদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।” এই মন্তব্যগুলো রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝখানে ফুটবলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গিয়ানি ইনফ্যান্টিনোকে রাশিয়ার ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজকত্বের পর ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে রাশিয়ান অর্ডার অফ ফ্রেন্ডশিপ মেডেল প্রদান করা হয়েছিল। এই সম্মানটি রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমান নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক আলোচনায় এই পুরস্কারটি পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাতভি বিডনি ইনফ্যান্টিনোর মন্তব্যকে “দায়িত্বহীন” এবং “শৈশবিক” বলে সমালোচনা করে, তিনি বলেন, “এই ধরনের কথা বললে ফুটবলকে বাস্তবতার থেকে আলাদা করে তোলা হয়, যেখানে শিশুরা মারাত্মক হুমকির মুখে আছে।” তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট মানবিক ক্ষতির দিকে ইঙ্গিত করে, ফুটবলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের বিপদ তুলে ধরেছেন।

বিডনি আরও উল্লেখ করেন, “রাশিয়ার পূর্ণমাত্রিক আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬৫০-এর বেশি ইউক্রেনীয় ক্রীড়াবিদ ও কোচ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১০০-এর বেশি ফুটবলারও অন্তর্ভুক্ত।” এই সংখ্যা রাশিয়ার সামরিক অভিযান চলাকালীন ক্রীড়া ক্ষেত্রেও বড় ক্ষতি হয়েছে তা স্পষ্ট করে। তিনি বলেন, এমন সময়ে নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের কোনো সিদ্ধান্ত ক্রীড়া জগতের নৈতিক দায়িত্বকে ক্ষুন্ন করবে।

যুদ্ধের অব্যাহত অবস্থায় রাশিয়ার ক্রীড়া সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যদিও রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপের সফল আয়োজকত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিল। বর্তমান নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবল কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে রেখেছে, যা রাশিয়ার ক্লাব ও জাতীয় দলের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

ফিফা এখনো রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। তবে ইনফ্যান্টিনোর মন্তব্যের পর সংস্থার অভ্যন্তরে এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার চাহিদা বাড়ছে। ইউইএফএও একই নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করেছে, যদিও রাশিয়ার ক্রীড়া সংস্থাগুলো থেকে চাপ বাড়ছে।

ইনফ্যান্টিনোর প্রস্তাবিত পরিবর্তন রাশিয়া ও ইউক্রেনের ক্রীড়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি নিষেধাজ্ঞা হ্রাস করা হয়, রাশিয়ার ক্লাব ও জাতীয় দলগুলো ইউরোপীয় লিগে ফিরে আসতে পারে, যা ক্রীড়া জগতের পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে। তবে ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে যুদ্ধের বাস্তবতা উপেক্ষা করা হিসেবে দেখছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে। রাশিয়ার ক্রীড়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করা মানে যুদ্ধের সময়কালে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রীড়াবিদদের স্বীকৃতি দেওয়া, তবে একই সঙ্গে যুদ্ধের অপরাধের প্রতি ন্যায়বিচার বজায় রাখা।

সারসংক্ষেপে, গিয়ানি ইনফ্যান্টিনোর রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রীর তীব্র বিরোধের মুখে রয়েছে। রাশিয়ার ক্রীড়া সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকলেও, যুদ্ধের মানবিক ক্ষতি ও ক্রীড়া নৈতিকতার প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments