ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি এই মন্তব্য স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন।
রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে, ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে ফিফা ও ইউইএফএ রাশিয়ার ক্লাব ও জাতীয় দলকে সকল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গৃহীত হয়েছিল।
ইনফ্যান্টিনো বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা কোনো কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি; বরং রাশিয়ার জনগণের মধ্যে হতাশা ও ঘৃণার মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি যুক্তি দেন, নিষেধাজ্ঞা কেবল ক্রীড়া ক্ষেত্রকে নয়, দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সংযোগের সম্ভাবনাকেও ক্ষুন্ন করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি রাশিয়ার তরুণ খেলোয়াড়রা ইউরোপের অন্যান্য লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তবে তা উভয় পক্ষের জন্য গঠনমূলক প্রভাব ফেলবে। এই ধরনের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ক্রীড়া মাধ্যমে সম্পর্কের সেতু গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
ইনফ্যান্টিনো স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ফুটবলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফুটবলের মাধ্যমে সংলাপের পথ খোলা রাখা আন্তর্জাতিক সমঝোতার ভিত্তি।
ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রী মাটভি বিডনি এই মন্তব্যের প্রতি তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করেন। তিনি ইনফ্যান্টিনোর বক্তব্যকে ‘অকাণ্ডজ্ঞানহীন’ ও ‘শিশুসুলভ’ বলে সমালোচনা করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফুটবলকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও শিশুদের প্রাণহানি উপেক্ষা করা হয়।
বিডনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কেবল ক্রীড়া ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকেও সমর্থন করে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংঘাতের সময়ে ক্রীড়া ও রাজনীতি আলাদা করা সম্ভব নয়, কারণ বাস্তবতা তীব্র মানবিক কষ্টে পূর্ণ।
ইনফ্যান্টিনোর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সমিতি, রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিছু গোষ্ঠী রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দেয়, অন্যরা ক্রীড়া মাধ্যমে শান্তি ও সংলাপের সম্ভাবনা দেখতে চান।
বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে এই আলোচনার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাশিয়ার ক্লাব ও জাতীয় দলকে পুনরায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে বর্তমান অবস্থায় উভয় পক্ষই ক্রীড়া ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



