27 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঅবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্র‑মালিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি না হওয়ায় শেয়ারবাজার সংস্কার স্থবির

অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্র‑মালিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি না হওয়ায় শেয়ারবাজার সংস্কার স্থবির

মাসুদুর রহমান, প্রায় দুই দশক ধরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারী, interim সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র‑মালিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশের পরেও কোনো নতুন পাবলিক কোম্পানি দেখেননি। তিনি আশা করেছিলেন যে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়ে কিছু পারফরম্যান্স‑ভিত্তিক রাষ্ট্র‑মালিক সংস্থা শেয়ারবাজারে আসবে, তবে তা ঘটেনি।

মে ১১, ২০২৫ তারিখে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস, তখনকার প্রধান উপদেষ্টা, মূলধন বাজারকে সজীব করার জন্য পাঁচটি মূল নির্দেশনা দেন। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে পারফরম্যান্স‑ভিত্তিক রাষ্ট্র‑মালিক সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্তি করা, বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার সাধারণ জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা এবং তালিকাভুক্ত না হওয়া কিন্তু ভাল ফলাফল দিচ্ছি এমন কোম্পানিগুলোকে পাবলিক হতে উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা প্রদান।

নির্দেশনা জারি হওয়ার পর প্রায় নয় মাস কেটে গিয়েও পারফরম্যান্স‑ভিত্তিক রাষ্ট্র‑মালিক সংস্থার তালিকাভুক্তি সম্পন্ন হয়নি। একই ধরনের উদ্যোগ পূর্বের অর্থমন্ত্রীদের সময়েও করা হয়েছিল, তবে সেসবেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

মাসুদুর রহমানের মতে, interim সরকার পূর্বের তুলনায় ব্যুরোক্রেটিক চাপ বাড়াবে বলে তিনি আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তার মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি ভেবেছিলাম এইবার সরকারী কর্মকর্তাদের উপর চাপ থাকবে, ফলে নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে।”

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (BSCPLC) ২০১২ সালে তালিকাভুক্ত হয়েছিল, এরপর থেকে অন্য কোনো রাষ্ট্র‑মালিক সংস্থা মূলধন বাজারে প্রবেশ করেনি। এই একক উদাহরণ ছাড়া, গত দশকে বেশ কিছু নিম্নমানের বা ‘জাঙ্ক’ কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়ে বাজারের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।

বাজারের অস্থিরতা বাড়ার পেছনে এই ‘জাঙ্ক’ শেয়ারগুলোর প্রবেশই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শেয়ার মূল্যের ওঠানামা তীব্র হয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গিয়েছে।

মে মাসের সভায় ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, অর্থ উপদেষ্টা, অর্থ সচিব এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পাঁচটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে মাঝপথে বাধা দেখা দেয় এবং কোনোটি সম্পন্ন হয়নি।

সভার পরপরই অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তাদের রাষ্ট্র‑মালিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেয়। এই আদেশের পরেও স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি রিপোর্ট করা হয়নি।

বিএসইসি’র মুখপাত্র আবুল কালাম উল্লেখ করেন, শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে তিনি আরও বলেন, বর্তমান পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন না হলে তালিকাভুক্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে না।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, রাষ্ট্র‑মালিক সংস্থার তালিকাভুক্তি না হওয়া বাজারের তরলতা ও গভীরতা কমিয়ে দেয়, ফলে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে, শেয়ারবাজারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত না হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর আস্থা হ্রাস পাবে।

ভবিষ্যতে যদি সরকার দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া চালু করে, তবে বাজারের অস্থিরতা কমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। অন্যদিকে, নির্দেশনা অনুসরণে দেরি বা অমিল হলে শেয়ারবাজারের পুনরুদ্ধার দীর্ঘমেয়াদে কঠিন হয়ে পড়বে।

সারসংক্ষেপে, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের পাঁচটি মূল নির্দেশনা এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি, এবং রাষ্ট্র‑মালিক সংস্থার তালিকাভুক্তি না হওয়ায় শেয়ারবাজারের সংস্কার প্রক্রিয়া স্থবির অবস্থায় রয়েছে। সরকারী উদ্যোগের ত্বরান্বিত বাস্তবায়নই বাজারের স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments