28 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ, এনবিআর স্পষ্টিকরণ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ, এনবিআর স্পষ্টিকরণ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ মঙ্গলবার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে করের হার দশ শতাংশ নয়, পাঁচ শতাংশ হবে। এই নির্দেশনা ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্বের ভুল ধারণা দূর করার লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তির এক অর্থবছরে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার নিচে থাকে, তবে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার পাঁচ শতাংশ নির্ধারিত হবে। একই সময়ে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে যদি বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার নিচে থাকে, তবে কোনো কর আরোপ হবে না, অর্থাৎ করের হার শূন্য শতাংশ থাকবে।

গত জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা অভিযোগ জানাচ্ছিলেন যে, তাদের মুনাফার ওপর দশ শতাংশ কর কাটা হচ্ছে, যদিও তারা পাঁচ লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করেনি। এই অভিযোগের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা দেয় এবং এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এনবিআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আয়কর আইন ধারা ১০৫ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির এক অর্থবছরে সব সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার দশ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে। তাই, বিনিয়োগের পরিমাণের সঠিক হিসাব রাখা জরুরি, যাতে অপ্রয়োজনীয় করের বোঝা এড়ানো যায়।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র প্রচলিত: পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সব পণ্যই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়েরই বিনিয়োগের সুযোগ দেয়।

এই স্পষ্টীকরণ বাজারে স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণের ভিত্তিতে করের হার নির্ধারণ করতে পারবেন, ফলে অপ্রয়োজনীয় কর কাটা কমে যাবে। ফলে সঞ্চয়পত্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

অন্যদিকে, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঁচ লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করে, তবে দশ শতাংশের উচ্চ কর হারের প্রয়োগ হবে, যা রিটার্নে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটাতে পারে। তাই, বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই কর হারের সমন্বয় সঞ্চয়পত্রের চাহিদা স্বল্পমেয়াদে বাড়তে পারে, বিশেষ করে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যেখানে শূন্য করের সুবিধা রয়েছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা মোট বিনিয়োগের সীমা অতিক্রম না করার জন্য পোর্টফোলিও পুনর্গঠন করতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও এই নির্দেশনা থেকে উপকৃত হবে, কারণ তারা এখন স্পষ্টভাবে জানবে কোন পণ্যগুলোতে করের হার কী হবে। এভাবে আর্থিক পরিকল্পনা আরও সুনির্দিষ্ট হবে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

কোম্পানিগুলি এখন তাদের কর্মচারীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ব্যবহার বাড়াতে পারে, যেহেতু এই পণ্যের ওপর কর শূন্য শতাংশে নির্ধারিত, যা কর্মচারী福利 বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।

তবে, করের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের নীতি পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা দরকার।

সংক্ষেপে, এনবিআরের এই স্পষ্টীকরণ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর করের হারকে পাঁচ শতাংশে সীমাবদ্ধ করেছে, এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নির্দিষ্ট শর্তে করমুক্তি নিশ্চিত করেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করবে, তবে মোট বিনিয়োগের সীমা অতিক্রম করলে উচ্চ করের ঝুঁকি রয়ে যাবে।

ভবিষ্যতে, সঞ্চয়পত্রের চাহিদা ও বাজারের গতিবিধি এই কর নীতির প্রয়োগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে উঠবে, এবং আর্থিক সংস্থাগুলি গ্রাহকদের সঠিক তথ্য প্রদান করে ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments