এয়ার ইন্ডিয়া একটি বয়িং 787-8 ড্রিমলাইনারের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটি জানিয়ে গ্রাউন্ড করেছে; এটি সোমবার প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এয়ার ইন্ডিয়া ভারতের সিভিল এভিয়েশন রেগুলেটরকে বিষয়টি জানিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা চালাবে।
বয়িং কোম্পানির মুখপাত্র ইমেইল উত্তর দিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বয়িং এই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য শেয়ার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। গ্রাউন্ডিংটি গত জুনের একই মডেলের দুর্ঘটনা তদন্তের সময় ঘটছে, যেখানে 260 জনের মৃত্যু ঘটেছিল।
পাইলটের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি লন্ডন থেকে উড়ে বেঙ্গালুরুতে অবতরণ করার পর ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এই রুটটি এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক সেবা অংশ, এবং গ্রাউন্ডিংটি সরাসরি এই রুটের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। বেঙ্গালুরুতে অবতরণকারী এই ফ্লাইটটি স্থানীয় এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ব্যবহারে সাময়িক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
গত বছর আগস্টে, এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডন-গন্তব্য বয়িং 787-8 ড্রিমলাইনার আহমদাবাদ থেকে টেকঅফের এক মিনিটের মধ্যে জ্বালানি সুইচ ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’ অবস্থায় সরে যাওয়ায় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে 260 জনের মৃত্যু ঘটায়। এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব ভারতীয় এয়ারক্রাফ্ট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) নিয়ে আছে, এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশের প্রত্যাশা। AAIB তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে এয়ার ইন্ডিয়া ও বয়িং উভয়ই অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
জুলাই মাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সুইচের অপ্রত্যাশিত অবস্থান পরিবর্তনই ইঞ্জিন বন্ধের মূল কারণ হতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বয়িং বিমানগুলোর জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেছে। FAA এই বিবৃতি প্রকাশের পর বয়িংকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত কোনো রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশনা জারি করেনি।
দুর্ঘটনার পর ভারতীয় সিভিল এভিয়েশন রেগুলেটর (DGCA) বয়িং 787 এবং 737 মডেলের ককপিট জ্বালানি সুইচের উপর বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া তখনই সমস্ত বয়িং 787 ফ্লিটের জ্বালানি সুইচের লকিং মেকানিজম পরীক্ষা করে কোনো ত্রুটি না পাওয়া জানিয়েছিল, এবং আজকের ঘোষণায় এই ফলাফল পুনর্ব্যক্ত করেছে। DGCA-র নির্দেশনা অনুসরণে এয়ার ইন্ডিয়া সব বয়িং 787 এবং 737 ফ্লিটের জ্বালানি সুইচের লকিং মেকানিজম পুনরায় যাচাই করেছে এবং ফলাফল শেয়ার করেছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রাউন্ডিংটি এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক রুটের সময়সূচি ও আয়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ড্রিমলাইনারের উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা ও দীর্ঘ দূরত্বের সক্ষমতা এয়ারলাইনটির লং-হল রুটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে;



