28 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধফরবস ৩০ আন্ডার ৩০ তালিকাভুক্ত ফিনটেক সিইও গোকচে গুভেনকে ফেডারেল অপরাধের অভিযোগে...

ফরবস ৩০ আন্ডার ৩০ তালিকাভুক্ত ফিনটেক সিইও গোকচে গুভেনকে ফেডারেল অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার

নিউ ইয়র্কে ২৬ বছর বয়সী তুর্কি নাগরিক গোকচে গুভেন, যিনি ফিনটেক স্টার্টআপ কাল্ডারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, তাকে সিকিউরিটিজ ফ্রড, ওয়্যার ফ্রড, ভিসা ফ্রড এবং গুরুতর পরিচয় চুরি অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি দ্বারা অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, গুভেন তার কোম্পানির সিড রাউন্ডে এপ্রিল ২০২৪-এ বারোটি অধিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে সাত মিলিয়ন ডলার তোলার সময় ভ্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন।

ফরবসের ৩০ আন্ডার ৩০ তালিকায় বহুবার এমন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যাঁরা পরে আর্থিক জালিয়াতি বা অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন; এ তালিকায় পূর্বে এফটিএক্সের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড, ফ্র্যাঙ্কের সিইও চার্লি জাভিস, এআই স্টার্টআপ অলহিয়ার এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা জোয়ানা স্মিথ-গ্রিফিন এবং ‘ফার্মা ব্রো’ মার্টিন স্ক্রেলি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গোকচে গুভেনেরও নাম গত বছর এই তালিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

কাল্ডার ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং “আপনার রিওয়ার্ডকে আয় ইঞ্জিনে রূপান্তর করুন” স্লোগান দিয়ে কোম্পানিগুলোকে ব্যক্তিগত রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম তৈরি ও মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে। এই মডেলটি অংশীদার অ্যাফিলিয়েট বিক্রয়ের মাধ্যমে চলমান আয় প্রবাহ তৈরি করার লক্ষ্য রাখে।

কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, গৃহীত ক্লায়েন্টদের মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত চকলেট ব্র্যান্ড গডিভা এবং আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (IATA) অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, কাল্ডারকে বেশ কিছু পরিচিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের সমর্থন পাওয়া যায় বলে প্রকাশ করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের অভিযোগে, গুভেনের উপস্থাপিত পিচ ডেকটি ২৬টি ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে কাল্ডার ব্যবহার করছে এবং অতিরিক্ত ৫৩টি ব্র্যান্ড ‘লাইভ ফ্রিমিয়াম’ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করে। তবে তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ব্র্যান্ডগুলোকে শুধুমাত্র হ্রাসকৃত পাইলট প্রোগ্রাম অফার করা হয়েছিল, এবং কিছু ব্র্যান্ডের সঙ্গে কোনো চুক্তি, এমনকি বিনামূল্যের সেবা পর্যন্ত, না থাকলেও তা ডেকের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পিচ ডেকে আর্থিক পূর্বাভাস ও আয় অনুমান সম্পর্কেও ভ্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত ব্যবসার সম্ভাবনা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করেছিল। এই ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে গুভেন ও তার দল অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছিলেন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগে মোট পাঁচটি অপরাধের ধারা অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে সিকিউরিটিজ ফ্রড এবং ওয়্যার ফ্রডের পাশাপাশি ভিসা ফ্রড ও পরিচয় চুরির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আদালতে প্রমাণিত হলে, গুভেনকে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং উল্লেখযোগ্য আর্থিক জরিমানা হতে পারে।

ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, গুভেনের কার্যকলাপ কেবল বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি ঘটায়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সিস্টেমের নিয়ম লঙ্ঘন করে ভিসা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি চালিয়েছেন। এছাড়া, পরিচয় চুরির অভিযোগে তিনি অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করেছেন।

গৃহীত অভিযোগের ভিত্তিতে গুভেনের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আজই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং তাকে জেলখানায় রাখা হয়েছে। পরবর্তী আদালত তার উপস্থিতি নির্ধারণের জন্য আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শেডিউল করা হয়েছে।

এই মামলাটি ফিনটেক সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে স্টার্টআপের আর্থিক তথ্য ও ক্লায়েন্ট তালিকা যাচাই করার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়বে।

ফেডারেল আদালতে গোকচে গুভেনের বিচার চলাকালীন, সংশ্লিষ্ট ভিসা ও পরিচয় চুরি মামলাগুলোর আলাদা তদন্তও সমান্তরালভাবে পরিচালিত হবে। মামলার ফলাফল ফিনটেক শিল্পের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments