কিশোরগঞ্জের কাতিয়াদি কলেজ মাঠে আজ সকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে দৃঢ় বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত যেকোনো প্রার্থীর জয়কে পার্টি স্বাগত জানাবে, তবে ‘ব্যাকডোর’ পদ্ধতিতে পরিচালিত কোনো নির্বাচন আর সহ্য করা হবে না।
র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে শফিকুর রহমান দেশের তরুণদের ভোটের রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের ফলাফলকে কারো হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না এবং প্রশাসনকে সব ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
বক্তা উল্লেখ করেন, জামাত কোনো গোষ্ঠীর কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা চায় না, তবে পার্টি তার স্বার্থ ক্ষুন্ন হলে নীরব থাকবে না। তিনি উপস্থিত কর্মী ও সমর্থকদের সতর্ক করেন, যেন ‘ভোট চোর’ কোনোভাবে প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করতে পারে, কালো টাকা ভোটের ওপর প্রভাব না ফেলতে পারে এবং জনগণকে ভুল পথে না নিয়ে যায়।
শফিকুর রহমান রেফারেন্ডামের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেন, দাবি করেন যে তা একটি বৈষম্য‑মুক্ত, ফ্যাসিজ‑মুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে। তিনি জামাতের শাসনকালে দুর্নীতি সহ্য না করার এবং ‘কেস ট্রেড’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বহিরাগত নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে কোনো বিদেশি আধিপত্য গ্রহণ করবে না। দেশের কর্মসংস্থান ন্যায়সঙ্গত ভিত্তিতে বরাদ্দ হবে এবং নারীর নিরাপত্তা বাড়াতে বাড়ি, রাস্তা ও কর্মস্থলে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এ বিষয়ে তিনি জোর দেন।
র্যালিতে উপস্থিত সমাবেশে শফিকুর রহমান ১১টি দলের জোটের প্রার্থীদের মধ্যে জামাতের ছয়টি পার্লামেন্টারি সীটের জন্য নির্বাচনী প্রতীক বিতরণ করেন। এই পদক্ষেপটি পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতি দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এ মুহূর্তে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে র্যালি বা শফিকুর রাহমানের মন্তব্যের প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে র্যালির পরবর্তী পর্যায়ে এই ঘোষণার প্রভাব কীভাবে নির্বাচনী গতিবিদ্যাকে প্রভাবিত করবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শফিকুরের বক্তব্যের ভিত্তিতে জামাতের ভবিষ্যৎ কৌশল স্পষ্ট: স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা, ‘ব্যাকডোর’ পদ্ধতি নির্মূল করা এবং দুর্নীতি‑মুক্ত শাসন গড়ে তোলা। র্যালিতে প্রকাশিত এই নীতি ও পরিকল্পনা পার্টির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে।
র্যালির সমাপ্তিতে উপস্থিতদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত দেখা যায়, যা জামাতের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তী সপ্তাহে পার্টি কীভাবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে এবং অন্যান্য দল কীভাবে সাড়া দেবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



