যাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি চা স্টলে ছাত্রছাত্রীরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করছিল। তাদের কথোপকথনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা-১৯ নির্বাচনী এলাকা, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই ভোটার।
ঢাকা-১৯-এ সাভার ও আশুলিয়া অন্তর্ভুক্ত, এবং শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া, সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা ও সাভার ক্যান্টনমেন্টের মতো অঞ্চলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই অঞ্চলটি গার্মেন্ট শিল্পের ঘনত্ব এবং ঢাকা–আরিচা হাইওয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গার্মেন্ট কারখানা ও হাইওয়ের সংযোগস্থলে ট্রাফিক জ্যাম দৈনন্দিন বাস্তবতা, বিশেষ করে নবীনগর, বাইপাইল ও সাভার বাস স্ট্যান্ডে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শিল্পের বর্জ্য বংশি নদী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গুরুতর দূষণ সৃষ্টি করেছে, আর অপর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা হালকা বৃষ্টির পরেও জলাবদ্ধতা তৈরি করে।
শক্তি সরবরাহের ঘাটতিও সমস্যার তালিকায় শীর্ষে; শিল্প ও গৃহস্থালিতে গ্যাসের অভাব নিয়মিতভাবে দেখা যায়। এছাড়া, পরিবহন, জুট (গার্মেন্ট স্ক্র্যাপ) ব্যবসা ও ভূমি দখল সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা এই শিল্পকেন্দ্রিক এলাকায় প্রায়ই ঘটে।
শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই অঞ্চলে বিশেষ প্রভাবশালী, কারণ গার্মেন্ট সেক্টরের কোনো অস্থিরতা সরাসরি জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, “ঢাকা-১৯-এ ভোটারদের বড় অংশই শ্রমিক। আমরা জীবনমান ও পেশাগত উন্নয়নের দাবিগুলো প্রার্থীদের সামনে তুলে ধরেছি এবং এখন কোন প্রার্থী আমাদের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছে তা মূল্যায়ন করছি।”
মিন্টু আরও যোগ করেন, “প্রার্থীদের ম্যানিফেস্টোতে শ্রমিকদের জন্য কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা দেখিনি। যদিও অনেকেই আমাদের কথা শোনার চেষ্টা করেছে, তবে ভারী প্রোফাইলের প্রার্থীরা আমাদের দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে চলেছে।”
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান প্রার্থীরা হলেন বিএনপি’র দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহুদ্দিন, জাতীয় নাগরিক দল (NCP) থেকে দিলশানা পারুল, যিনি জামাত-নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতিনিধিত্ব করছেন, এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ ফারুক খান।
গার্মেন্ট শ্রমিকদের দাবি ও তাদের ভোটের সম্ভাবনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই গোষ্ঠীর সমর্থন প্রার্থীকে নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করতে পারে। শ্রমিক ইউনিয়নের মতামত ও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি তুলনা করে ভোটাররা তাদের ভোটের দিক নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফল সাভার ও আশুলিয়ার অর্থনৈতিক গতিবিধি, ট্রাফিক ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধান, এবং গার্মেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ নীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাই এই অঞ্চল থেকে আসা ভোটের প্রবণতা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে গঠন করবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, এবং গার্মেন্ট শ্রমিকদের চাহিদা কীভাবে নির্বাচনী প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয় তা ভবিষ্যৎ নীতির দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



