জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে এইচএস কোড (HS Code) অনুযায়ী পণ্য আমদানি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এতে পণ্যের পরিমাণ, ওজন এবং মূল্যসহ বিশদ তথ্য থাকবে, যা বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধা উভয়ের জন্যই উন্মুক্ত হবে।
বিজ্ঞপ্তির আগে, গত সপ্তাহেই এনবিআরের সাইট (www.nbr.gov.bd) ‘publication’ পোর্টালের ‘customs’ লিংকে ডিসেম্বর ২০২৫ মাসের এইচএস কোড ভিত্তিক আমদানি তথ্য আপলোড করেছিল। ঐ পৃষ্ঠায় শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে পণ্যের পরিমাণ, মোট ওজন এবং আনুমানিক মূল্য প্রদর্শিত হয়েছে।
এনবিআরের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, বিনিয়োগকারী, বাণিজ্য গবেষক, ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবিকে পূরণ করা। পূর্বে এই তথ্যগুলো সীমিতভাবে অথবা অনুরোধের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হতো, এখন তা সর্বসাধারণের জন্য একসাথে উপলব্ধ হবে।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ডেটা প্রতিটি এইচএস কোডের অধীনে আমদানি করা পণ্যের সংখ্যা, মোট ওজন এবং মোট মূল্যকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। ব্যবহারকারীরা কোড অনুসারে ফিল্টার করে নির্দিষ্ট পণ্যের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে পারবেন, যা বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের গতিবিধি বুঝতে সহায়ক হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উল্লেখ করেছে যে, ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন’ সম্পর্কিত সব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং এই তথ্যের মাসিক প্রকাশ নিয়মিতভাবে চালু রাখা হবে। ভবিষ্যতে কোনো বিরতি না রেখে, ডেটা আপডেটের সময়সূচি ও ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন না করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই তথ্যের স্বচ্ছতা বাজারের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ ও মূল্যের সঠিক তথ্য থাকলে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ শৃঙ্খল পরিকল্পনা, ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা এবং মূল্য নির্ধারণে আরও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্যও এই ডেটা মূল্যবান, কারণ এটি নির্দিষ্ট সেক্টরে আমদানি প্রবণতা ও বৃদ্ধির হার প্রকাশ করে। উদাহরণস্বরূপ, ইলেকট্রনিক্স, রসায়ন বা টেক্সটাইলের মতো উচ্চ আমদানি শেয়ারযুক্ত শিল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা সহজ হবে।
নীতিনির্ধারকদের জন্যও এই তথ্যের প্রাপ্যতা নীতিগত সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করবে। আমদানি প্রবাহের বাস্তব সময়ের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শুল্ক নীতি, কোটা ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা যাবে, যা দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে।
তবে ডেটার নির্ভরযোগ্যতা ও সময়োপযোগিতা বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদি তথ্য আপডেটের মধ্যে দেরি হয়, তবে বাজারের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদা সঠিকভাবে ধরা না পড়তে পারে। তাই এনবিআরের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও ডেটা যাচাই প্রক্রিয়ার শক্তিশালীকরণ গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘমেয়াদে, মাসিক এইচএস কোড ভিত্তিক আমদানি তথ্যের ধারাবাহিক প্রকাশ স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা যায়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা যখন দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে স্বচ্ছ দেখবে, তখন সরাসরি বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বিশ্ববাজারের সঙ্গে তুলনা করে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে সুবিধা পাবে।
সংক্ষেপে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই পদক্ষেপ বাণিজ্যিক তথ্যের উন্মুক্ততা বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণকে সমর্থন করবে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক নীতি গঠনে প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি সরবরাহ করবে।



