লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে মঙ্গলবার সকালেই আগারগাঁও কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, কোস্ট গার্ডের কোনো সদস্য যদি কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত হয় তবে তাকে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি এই সতর্কতা দেন, কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলছে।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন ও ভোটের সময় কোস্ট গার্ডের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকার কোনো ধরণের শৈথিল্য দেখাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কঠোর নজর রাখবে।
কোস্ট গার্ডের উপকূলীয় নিরাপত্তা, অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানব পাচার, ডাকাতি ও জলদস্যুতা দমন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদানকে তিনি প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এইসব কাজের জন্য কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে।
নিয়মিত টহল ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনাক্রান্ত নৌযান ও নাবিকদের উদ্ধারেও কোস্ট গার্ড সফল ফলাফল অর্জন করেছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য বিপর্যয়কালে উপকূলীয় জনগণকে সতর্ক করা, ত্রাণ সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ, লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ এবং রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তা প্রদানেও তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মানব পাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের কাজকে তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাদের ভূমিকা দেশের কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কোস্ট গার্ডের ৩,৫৮৫ জন সদস্যসহ সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েন করেছে। এই বৃহৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও শান্তি রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত।
বিশেষত বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে ১০০টি প্লাটুন গঠন করে মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্লাটুনগুলো নির্বাচনের সময় ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করবে।
উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো সদস্য যদি কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত হয় তবে তাকে কঠোর শাস্তি, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এই সতর্কতা নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব রোধের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা চালু করেছে, যাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।



