হোম অ্যাডভাইজার লে. জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পূর্ব-নির্বাচনী সময়ে ঘটমান সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না এবং আসন্ন ভোটে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। তিনি এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে, যেখানে ৪০জন কর্মকর্তা ও নাবিককে তাদের সেবা ও পারফরম্যান্সের জন্য সম্মানিত করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন শাখা থেকে অংশগ্রহণকারী ও তাদের পরিবার উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে জাহাঙ্গীর চৌধুরীকে সম্মানিত করা হয় তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্বের জন্য, এবং তিনি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ব-নির্বাচনী সহিংসতায় ১৫ জনের মৃত্যু উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিআইবিকে অতীত নির্বাচনের বছরভিত্তিক তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানান, যাতে বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সংঘর্ষ একই গোষ্ঠীর মধ্যে ঘটে, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামগ্রিকভাবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় উন্নত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে নির্দেশনা অনুসারে মাঠে মোতায়েন হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জনগণ ও মিডিয়াকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ধৈর্য, সতর্কতা এবং সহনশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
কোস্টাল অঞ্চলে এবং সুন্দরবনে ৫ই আগস্টের পর ‘দস্যু’দের আধিপত্যের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও জাহাঙ্গীর চৌধুরী তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই দস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে পর্যটকরা ওই অঞ্চল ভ্রমণ করতে পারবে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, এক বা দুইটি স্থানে সীমিত দস্যু কার্যকলাপ থাকতে পারে, তবে সমগ্র অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ।
নির্বাচন সূচি ঘোষণার পর এবং ৫ই আগস্টের ঘটনাগুলোর পর অস্ত্র পুনরুদ্ধারে ব্যর্থতার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, প্রতিদিনই ব্যবহারিক অস্ত্র পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে এবং কোনো বড় ধরণের ব্যর্থতা ঘটেনি। এই বিষয়টি নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন, কোস্ট গার্ড দেশের নিরাপত্তা ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মাদকদ্রব্যের অবরোধ, রোহিঙ্গা শিবিরের আশেপাশের এলাকায় কার্যক্রম, এবং বিদেশে আটক হওয়া বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের প্রত্যাবর্তন এসব কাজের মধ্যে কোস্ট গার্ডের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। তিনি সকলের প্রতি কোস্ট গার্ডের এই সেবা জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরবর্তী দিনগুলোতে নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে জাহাঙ্গীর চৌধুরীর মতে বর্তমান প্রস্তুতি ও মোতায়েনের ভিত্তিতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। তিনি আবারও জনগণকে শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রমে সমর্থন প্রত্যাশা করেন।



