যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারক অানা রেইস গতকাল একটি আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের হাইতি অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা (TPS) বাতিলের প্রচেষ্টা অস্থায়ীভাবে থামিয়ে দিয়েছেন। এই রায়টি টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে জারি করা হয়, ফলে ৩৫০,০০০েরও বেশি হাইতি নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার রক্ষা পায়। রেইসের সিদ্ধান্তের পেছনে আইনগত ও প্রমাণগত ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে।
TPS প্রোগ্রামটি হাইতি নাগরিকদেরকে এমন দেশগুলোতে প্রত্যর্পণ থেকে রক্ষা করে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সশস্ত্র সংঘাত বা অন্যান্য সংকটের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে হাইতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ এই সুরক্ষার আওতায় আছেন, যাদের অধিকাংশই ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূকম্পনের পর টিপিএস পেয়েছিলেন।
বিচারক রেইসের রায়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধানের সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আইনগত ভিত্তি অনুপস্থিত। তিনি লিখেছেন যে অভিযুক্তরা দাবি করছেন সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিতভাবে নিয়েছেন এবং তা বর্ণবৈষম্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যা রেইসের মতে সম্ভাব্য বলে বিবেচিত।
এই মামলায় পাঁচজন হাইতি টিপিএস ধারক মূলবাদী পক্ষ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের টিপিএস বাতিলের চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তাদের বৈধ অবস্থান রক্ষা চেয়েছেন। রেইস এই দাবিগুলোকে যথাযথ বলে বিবেচনা করে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলাটি বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং টিপিএস রক্ষা বজায় রাখার অনুরোধ মঞ্জুর করেন।
রেইসের ৮৩ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি নোয়েমের লিখিত মন্তব্যে ব্যবহৃত “হত্যাকারী, রক্তচোষা বা সুবিধা চাওয়া লোক” শব্দগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে উল্লেখ করেছেন যে টিপিএস ধারকরা এ ধরনের কোনো গুণাবলী বহন করে না। তিনি এই ধরনের বর্ণনাকে অনুপযুক্ত ও ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করেছেন।
হাইতি প্রথমবার টিপিএসের জন্য যোগ্য ঘোষিত হয় ২০১০ সালের ভূকম্পনের পর, যখন দেশটি বিশাল মানবিক সংকটে পড়েছিল। এরপর থেকে এই সুরক্ষা বহুবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সর্বশেষ ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে যে হাইতি টিপিএস ধীরে ধীরে স্থায়ী বসবাসের রূপ নেয় এবং মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ট্রাম্প প্রশাসন টিপিএস প্রোগ্রামগুলোকে ব্যাপকভাবে বাতিলের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আফগানিস্তান, ইথিওপিয়া, হন্ডুরাস, মায়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলা সহ বহু দেশের শত সহস্রাধিক অভিবাসীকে প্রত্যর্পণের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এই পদক্ষেপগুলোকে তারা অভিবাসন নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ২,৫০০ অন্যান্য অভিবাসীর জন্যও টিপিএস সুরক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা চালু করেছে, যদিও এই গোষ্ঠীর বিশদ তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই পদক্ষেপগুলোকে সমর্থকরা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরলেও, সমালোচকরা মানবিক দায়িত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
বিচারকের অস্থায়ী রায়ের পরবর্তী ধাপ হবে মামলাটির আপিল প্রক্রিয়া, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ট্রাম্প প্রশাসনের টিপিএস বাতিলের দাবি শেষ পর্যন্ত সফল হয়, তবে হাইতি সহ অন্যান্য দেশের বহু অভিবাসীকে প্রত্যর্পণ বা আইনি অবস্থার অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়াতে হবে। অন্যদিকে, রেইসের রায় টিপিএসের ধারকদের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং আদালতের পরবর্তী রায়ের জন্য সময় দেয়।



