ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৬ – ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতা কমানো এবং শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মব সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং এবং রাজনৈতিক উস্কানিমূলক ভাষার ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়।
গত বছর ৫ আগস্টের প্রতিবাদে মাদক ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে জনসাধারণের বিশাল প্রতিবাদ দেখা যায়। ঐ দিন সড়কে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যা পূর্বে শাসক দলের ছায়ায় গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেটের প্রতি জনসাধারণের ক্রোধের প্রকাশ ছিল। প্রতিবাদ পরবর্তী সময়ে সরকার পতনের সূত্রপাত করে এবং নতুন শাসক দল ক্ষমতা গ্রহণ করে।
নতুন সরকার গৃহীত নীতি অনুযায়ী মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা হবে, যার আওতায় অপরাধী ও গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইন প্রয়োগে স্বয়ংক্রিয় বিচার বা স্বয়ংসম্পূর্ণ শাস্তি নিষিদ্ধ করা হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
মিডিয়া ও প্রকাশনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রকাশ্যে বলেছে যে মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা হবে এবং ভিন্নমত প্রকাশকারী ব্যক্তিদের ওপর কোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণ সহ্য করা হবে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের অফিসে আক্রমণ এবং মিডিয়া কর্মীদের ওপর হুমকি বাড়ার খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন নীতির কার্যকরী বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক ভাষার পরিবর্তনও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা সমাজে সহিংসতা ও অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নতুন শাসক দল এই ধারা ভাঙতে চায় এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরিবর্তে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তারা যুক্তি দিচ্ছে যে মব সন্ত্রাসের মূল কাঠামো গড়ে তুলতে বহু বছর লেগেছে এবং তা দ্রুত ভাঙা কঠিন। তাছাড়া, আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও প্রয়োজন, যা এক রাতের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
অপরদিকে, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক অধিকার সংস্থা নতুন সরকারের নীতি সমর্থন করে এবং দাবি করে যে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি কার্যকর হলে সমাজে নিরাপত্তা ও শাসনের প্রতি আস্থা ফিরে আসবে। তারা উল্লেখ করে যে মব সন্ত্রাসের শিকার হওয়া পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করছে এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি নতুন সরকার শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা নির্বাচনী সমর্থন বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, নীতি ব্যর্থ হলে জনমত পুনরায় শাসক দলের দিকে ঝুঁকতে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন, যুব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক পুনর্বাসন প্রোগ্রাম চালু এবং মিডিয়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের সময়সূচি ও তহবিলের উৎস এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সরকার বলছে যে তা দ্রুত সম্পন্ন হবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন শাসক দল সামাজিক অস্থিরতা কমানো, শাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য একাধিক নীতি প্রণয়ন করেছে। তবে বাস্তবায়নের গতি, আইনগত কাঠামোর শক্তি এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি এই নীতিগুলোর সাফল্য নির্ধারণ করবে। দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা জরুরি।



