মুম্বাইয়ের একটি সিভিল কোর্টে হুসেইন উস্তারা (হুসেইন শাখ) এর কন্যা সানোবের শাখ সোমবার ও’রোমিও নামের হিন্দি চলচ্চিত্রের মুক্তি বাধা দেওয়ার জন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে ছবিটি তার পিতার জীবনের অননুমোদিত বায়োগ্রাফিক চিত্রায়ণ এবং তা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সঠিকভাবে মেলে না।
মামলায় প্রযোজক সজিদ নাদিয়াদওয়ালা, পরিচালক বিশাল ভারদ্বাজ এবং সাংবাদিক-লেখক হুসেইন জায়দিকে বাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সানোবের শাখ কোর্টকে অনুরোধ করেন যে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত মুক্তি তারিখে অথবা পরবর্তী কোনো তারিখে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন না করা হোক, যতক্ষণ না আদালত অন্যথা নির্দেশ করে।
কোর্টের দাখিলকৃত নথিতে বলা হয়েছে যে, ছবির নির্মাণের পূর্বে কোনো অনুমতি বা সম্মতি নেওয়া হয়নি। বাদী যুক্তি দেন যে, ছবিটি মূলত বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্যে তৈরি এবং হুসেইন শাখের জীবনীকে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যাকে সাধারণত হুসেইন উস্তারা নামে পরিচিত।
সানোবের শাখ তার পিতার চিত্রায়ণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের উপস্থাপনা তার এবং তার সন্তানদের জন্য অপরিবর্তনীয় ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, তার সন্তানদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে এবং ছবির মুক্তি পিতার সুনামকে ক্ষুন্ন করতে পারে।
মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ রয়েছে—কোর্টকে ছবির প্রি-স্ক্রিনিংয়ের আদেশ দিতে এবং একটি অনুমোদিত ব্যক্তিকে, যেমন কোর্ট কমিশনারকে, বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য নিয়োগ করতে। এই ব্যবস্থা ছবির বিষয়বস্তু যাচাই না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণের সামনে প্রদর্শন রোধ করবে।
চলচ্চিত্রের নির্মাতাদের কাছে পূর্বে বেশ কয়েকটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের জবাবে বিশাল ভারদ্বাজ এবং নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেনের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলছেন যে, ও’রোমিও কোনো বায়োগ্রাফিক কাজ নয়, এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক রচনা।
বিরোধী পক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, ছবির গল্প বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে নয় এবং কোনো ব্যক্তিগত তথ্যের অননুমোদিত ব্যবহার করা হয়নি। তাই তারা বাদীর দাবিকে অস্বীকার করে এবং চলচ্চিত্রের মুক্তি অব্যাহত রাখার পক্ষে সওয়াল করে।
ইনজাংশন সংক্রান্ত শুনানি ৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করা হবে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে, তবে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্ধারিত মুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে।
এই মামলা সাম্প্রতিক সময়ে বাস্তব ব্যক্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি চলচ্চিত্রের চিত্রায়ণ নিয়ে বাড়তে থাকা আইনি বিতর্কের একটি উদাহরণ। পরিবারগুলো তাদের গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হচ্ছে।
পাঠকগণ কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখবেন, যাতে ও’রোমিও চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।



