24 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিসিবিতে জমা হল জাহানারা আলমের যৌন হয়রানি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন

বিসিবিতে জমা হল জাহানারা আলমের যৌন হয়রানি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন

বিসিবি (বিসিবি) সোমবার জাহানারা আলমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি অভিযোগের তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে সরবরাহ করা হয়েছে, তবে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রাথমিকভাবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তিনটি পর্যায়ে সময় বাড়ানোর পরও তা অতিক্রান্ত হয়। বিসিবি প্রথমে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং জাহানারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে নির্দেশ দেয়। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত জাহানারা ১৫ দিন সময় চেয়ে অনুরোধ করেন, ফলে তাকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ দাখিল করতে বলা হয়।

জাহানারা লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ২২ ডিসেম্বর বিসিবি তদন্ত কমিটিকে জানায় যে প্রতিবেদনটি ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে। একই সময়ে কমিটি জানায় যে ন্যায্য ও উপযুক্ত তদন্তের জন্য আরও কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তথ্য যাচাই প্রয়োজন। এই অতিরিক্ত সময়ের পরই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি বিসিবির কাছে পৌঁছায়।

গত মাসে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে জাহানারা আলমের এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায়। তাতে তিনি দাবি করেন যে ২০২২ নিউ জিল্যান্ড বিশ্বকাপের সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে যৌন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর বাজে আচরণ করার অভিযোগ তুলে ধরেন।

জাহানারা একই রকম অভিযোগ তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে করেন, যিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ এবং পূর্বে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। তৌহিদের বিরুদ্ধে তিনি শোষণ, মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হেনস্তার অভিযোগ উত্থাপন করেন। এই অভিযোগের পর আরও কয়েকজন ক্রিকেটারও নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন।

বিসিবি তোলপাড়ের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমকে নিয়োগ করা হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। গঠনের পর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য দুইজন অতিরিক্ত সদস্য যুক্ত করা হয়, যদিও তাদের নাম ও পদবী প্রকাশ করা হয়নি।

কমিটির কাজের সময়কালে জাহানারা লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং বিসিবি তাকে অতিরিক্ত সময়ের অনুমতি দেয়। তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটি বিভিন্ন খেলোয়াড়, কোচ এবং বোর্ডের কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য বিবরণ প্রকাশিত হয়নি যে কমিটি কী ফলাফল পেয়েছে বা কোন পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে।

বিসিবি এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যভাবে মন্তব্য না করেও জানিয়েছে যে তারা অভিযোগের যথাযথ তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে বোর্ডের অভ্যন্তরে এই ধরনের অভিযোগের প্রতি শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই ঘটনার পর বিসিবি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে যাতে দ্রুত এবং স্বচ্ছ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জাহানারা এবং অন্যান্য অভিযোগকারী খেলোয়াড়ের দাবি অনুযায়ী, যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ উন্মোচিত হতে পারে।

বিসিবি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি যে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী, প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অনুমান করা যায়।

বিসিবি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য এখন সময় এসেছে যে তারা কীভাবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি সামলাবে এবং ক্রীড়া জগতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে তা স্পষ্ট করা। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments