24 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাইন্ডিয়া-পাকিস্তান টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচ না হলে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি

ইন্ডিয়া-পাকিস্তান টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচ না হলে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি

ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান দল ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত টি২০ বিশ্বকাপের মুখ্য ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আর্থিক প্রবাহে বিশাল প্রভাব ফেলবে। দুই দলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উচ্চ দর্শকসংখ্যা এই ম্যাচকে প্রতিটি আইসিসি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ আয়জনক ইভেন্ট করে তুলেছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সীমিত কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান কেবল বহুদলীয় টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়, ফলে আইসিসি প্রায়শই তাদের একই গ্রুপে রাখে যাতে দর্শকসংখ্যা বাড়ে। এই পদ্ধতি দুই দলের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরিহার্য করে তুলেছে।

পাকিস্তান সরকার রবিবার ঘোষণা করেছে যে, দেশের দল ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত উচ্চপ্রোফাইল ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে না। যদি পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত বজায় রাখে, তবে তারা সরাসরি মিলিয়ন ডলারের আয় হারাবে, আর আইসিসি ও ভারতের মিডিয়া অধিকারধারী জিওস্টারও উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

একটি ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচের মোট মূল্য প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২,৭৫০ কোটি টাকা) হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে, যা আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য বিশাল আয়। পাকিস্তানের বার্ষিক আয় প্রায় ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার, ফলে একক ম্যাচের ক্ষতি তাদের সামগ্রিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।

জিওস্টার বর্তমানে আইসিসি সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি পুনরায় আলোচনা করার চেষ্টা করছে, এবং এই ম্যাচের অনুপস্থিতি তাদের আলোচনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চুক্তির পুনর্নবীকরণে উভয় পক্ষই আর্থিক দিক থেকে সমন্বয় খুঁজছে।

প্রচারণা সংস্থাগুলি এই ম্যাচের বিজ্ঞাপন আয় হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যার অনুমানিত ক্ষতি ২৪ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার (২৬০ থেকে ৩২৫ কোটি টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের উচ্চমানের ম্যাচের বিজ্ঞাপন দামের ওপর বড় প্রভাব পড়বে।

বিশেষ করে, দশ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লটের দাম প্রায় ৪৮,০০০ ডলার (৫২ লাখ টাকা) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যয়। এই উচ্চমূল্যই ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচকে বিজ্ঞাপন বাজারে সবচেয়ে মূল্যবান করে তুলেছে।

যদি পাকিস্তান ম্যাচ থেকে বাদ পড়ে, তবে ইন্ডিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ পয়েন্ট পাবে, তবে আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) ওপর আর্থিক শাস্তি আরোপের অধিকার সংরক্ষণ করেছে। শাস্তি নির্ধারণে আইসিসি পূর্বের নীতিমালা অনুসরণ করবে।

সামি-উল-হাসান বার্নি, যিনি পূর্বে আইসিসি ও PCB-র যোগাযোগ প্রধান ছিলেন, এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে একক ম্যাচের মোট ক্ষতি ২৫০ মিলিয়ন ডলার, যা শুধুমাত্র সম্প্রচারকারীর ক্ষতি নয়, পুরো ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বার্ষিক আয় ও এই ম্যাচের মূল্য তুলনা করলে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের সূত্র অনুযায়ী, গোপন আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শিল্প বিশেষজ্ঞরা এক ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচের গ্লোবাল দর্শকসংখ্যা এক বিলিয়নেরও বেশি বলে অনুমান করেন, যা সরাসরি ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করে। এই বিশাল দর্শকসংখ্যা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য আকর্ষণীয় বাজার তৈরি করে।

আইসিসি পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে এই ম্যাচের গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইন্ডিয়া-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়া না হলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক আকর্ষণ ও আর্থিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আইসিসি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সারসংক্ষেপে, ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের মুখ্য ম্যাচের সম্ভাব্য বাতিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আয়-ব্যয়ের কাঠামোকে বিশালভাবে পরিবর্তন করবে, যার ফলে পাকিস্তান, আইসিসি এবং জিওস্টার সহ বহু স্টেকহোল্ডার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments