মিনেসোটা রাজ্যের রাজধানী মিনিয়াপলিসে ২৪ জানুয়ারি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) বৃহত্তম অভিবাসন অভিযান চালানোর সময় প্রতিবাদকারীদের উপর গ্যাস ও মরিচের স্প্রে ব্যবহার করা হয়। এই ঘটনার ফলে বহু মানুষ তীব্র চোখের জ্বালা, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের জ্বালা অনুভব করে, আর কিছু শিশু নিরাপদ বাতাসের সন্ধানে তুষারময় রাস্তায় পালিয়ে যায়। সরকারী সংস্থা দাবি করে যে অপারেশনটি হাজারো অবৈধ অভিবাসীর গ্রেফতার করেছে, তবে একই সময়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর রসায়নীয় পদার্থের ব্যবহার বাড়ছে।
মিনিয়াপলিসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদকারীরা ফেডারেল এজেন্টদের মুখোশ পরা দলকে মুখোমুখি হয়, যেখানে গ্যাসের ক্যানিস্টার ও মরিচের স্প্রে সরাসরি মানুষে ছোঁড়া হয়। ভিডিও ও ছবি থেকে দেখা যায়, গ্যাসের মেঘ গাড়ির নিচে থেকে বেরিয়ে এসে শিশুদের গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, ফলে তারা শ্বাস নিতে অক্ষম হয়ে রাস্তায় ছুটে যায়। একই সঙ্গে, এক ব্যক্তি মুখে অরেঞ্জ রঙের পেইন্ট লাগিয়ে মরিচের স্প্রে ব্যবহার করে, কিন্তু ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা জমিতে পিন করা হয় এবং তার চোখের জ্বালা থামাতে পারে না।
এই রসায়নীয় পদার্থগুলো আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দশকের পর দশক ধরে নাগরিকদের ওপর ব্যবহার করে আসছে। DHS এই পদার্থগুলোকে “দল নিয়ন্ত্রণের উপকরণ” হিসেবে উল্লেখ করে, তবে বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দেন যে এদের ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক মানদণ্ডের লঙ্ঘন হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস ও মরিচের স্প্রে কেবল তাত্ক্ষণিক অশ্রু ও চোখের জ্বালা সৃষ্টি করে না, বরং শ্বাসযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি, ত্বকের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া এবং কখনো কখনো প্রাণঘাতী ফলেও পৌঁছাতে পারে। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারিবিদ আশা হাসান উল্লেখ করেন, এই পদার্থগুলোকে “রাসায়নিক অস্ত্র” হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, কারণ এগুলো শিশু ও বয়স্কদের মতো দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। তিনি বলেন, গ্যাসের ব্যবহার কেবল অশ্রু উৎপন্ন করে না, বরং শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং কখনো কখনো মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
তবে, গ্যাস ও মরিচের স্প্রের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের প্রভাব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অভাব রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বৃহৎ, পদ্ধতিগত গবেষণা এই পদার্থের ব্যবহার পরবর্তী স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে বিশ্লেষণ করেনি। ফলে, রোগীর দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ, যেমন শ্বাসযন্ত্রের ক্রনিক রোগ বা ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জি, কতটা গ্যাসের ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত তা স্পষ্ট নয়।
DHS এই পদার্থের ব্যবহারকে অপরাধমূলক অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ও জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে যুক্তি দেয়। সংস্থার মুখপাত্র উল্লেখ করেন, গ্যাস ও মরিচের স্প্রে ব্যবহার না করলে বড় আকারের প্রতিবাদকে দমন করা কঠিন হতো এবং আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি হতো। তবে, প্রতিবাদকারীরা ও মানবাধিকার সংস্থা দাবি করে যে এই পদার্থের ব্যবহার অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয়, বিশেষ করে যখন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরাও লক্ষ্যবস্তু হয়।
এই পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল, কারণ DHS-র বৃহত্তম অভিবাসন অভিযান এবং তার সঙ্গে যুক্ত গ্যাসের ব্যবহার সরকারী নীতি ও মানবাধিকার সংরক্ষণের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে, আইন প্রণেতা ও স্বাস্থ্য সংস্থা গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করার জন্য নতুন বিধান প্রণয়ন করতে পারে, অথবা বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োগ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের গবেষণা চালু করা জরুরি, যাতে নীতি নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তি থাকে।
সংক্ষেপে, মিনেসোটা শহরে গ্যাস ও মরিচের স্প্রে ব্যবহার করে বড় পরিসরের প্রতিবাদ দমন করা হয়েছে, তবে এই পদার্থের স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অজানা। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে, সরকারকে এই বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে যথাযথ গবেষণা ও নীতি সমন্বয় করতে হবে।



