জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমান গতকাল লোহাগাড়া, চট্টগ্রামের পাদুয়া হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত প্রচার সমাবেশে ভোটারদের কাছে স্পষ্ট সতর্কতা জানিয়ে বলেন, যারা ২০২৪ সালের গণউত্থানের আত্মা স্বীকার করবে না, তাদেরকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে।
সমাবেশে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জাতি আজ ’২৪ আন্দোলনের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে; তাই ’২৪ স্বীকৃতি না দিলে ভোটে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ এর আদর্শই দেশের ভবিষ্যৎ শাসনের দিকনির্দেশনা হওয়া উচিত।
১১ দলীয় জোটের লক্ষ্য কেবল নিজের জন্য নয়, পুরো ১.৮ কোটি জনগণের মঙ্গলের জন্য জয় অর্জন করা, এ কথায় শফিকুরের বক্তব্যে জোটের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। তিনি জোটের নীতি ও কর্মসূচি দেশের সমগ্র জনগণের কল্যাণে কেন্দ্রীভূত থাকবে বলে জোর দেন।
শফিকুর রহমানের র্যালি সফর কক্সবাজার, মহেশখালী, সীতাকুন্ডা এবং চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত ছিল। প্রতিটি সমাবেশে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে জোটের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মহেশখালীর সমাবেশে তিনি ভোটারদেরকে রেফারেন্ডামের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আহ্বান জানান, এটিকে ‘জুলাই চুক্তি’ রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটই স্বাধীনতা, আর ‘না’ ভোটকে দাসত্বের সমতুল্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
শফিকুরের মতে, পূর্বে নীরব থাকা ভোটারদের এখন ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের প্রকাশিত মতামত তাদের প্রকৃত বিশ্বাসের প্রতিফলন হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করেন, ‘হ্যাঁ’ বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করলে জনগণ তা ফ্যাসিজম ও বংশগত স্বৈরশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইচ্ছা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
এছাড়া তিনি নির্বাচনের দিন ‘ভোট চোর’দের বিরুদ্ধে সতর্কতা দেন, ভোটারদেরকে সজাগ থাকতে এবং কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রভাবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে আহ্বান জানান।
সামাজিক সংস্কারের দিকেও শফিকুরের মন্তব্য স্পষ্ট। কক্সবাজারের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে তিনি উল্লেখ করেন, যদি ১১ দলীয় জোট শাসন গ্রহণ করে, তবে নারীর শিক্ষা মাস্টার্স স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে। তিনি বলেন, সরকার নারীর শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে।
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন। ঘরে ও বাইরে নারীর সুরক্ষার জন্য শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হবে, এবং যে কোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনকে কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে।
শফিকুরের শেষ বক্তব্যে তিনি ভোটারদেরকে ‘ভোট চোর’দের চিহ্নিত করতে এবং স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম ভোট রেফারেন্ডামের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই চুক্তি রক্ষা করা হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল স্তম্ভ।
এই সমাবেশের পর শফিকুরের দল ও সমর্থকরা পরবর্তী র্যালি ও প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, যাতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জোটের নীতি ও লক্ষ্য ব্যাপকভাবে পৌঁছাতে পারে।



