24 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিলাগোসের মাকোকো লেগুনে শরণার্থী ঘর ধ্বংস, সরকার নিরাপত্তা দাবি

লাগোসের মাকোকো লেগুনে শরণার্থী ঘর ধ্বংস, সরকার নিরাপত্তা দাবি

লাগোসের মাকোকো লেগুনে, শহরের বৃহত্তম অনানুষ্ঠানিক জলতীরবর্তী বসতি থেকে বহু কাঠের ঘর ধ্বংস করা হয়েছে। এই কাজটি ক্রিসমাসের দুই দিন আগে শুরু হয় এবং সরকার নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিশেষত উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন নিকটবর্তীতা, উল্লেখ করে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় গোষ্ঠী হিংসাত্মক ধ্বংস ও অগোছালো আগুনের অভিযোগ তুলেছে।

ম্যাকোকোর এক মা, অ্যানা সোবি, পাঁচ সন্তানসহ তার পরিবারকে এই ধ্বংসের ফলে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়েছে। তার কাঠের ঘর, যা লেগুনের ওপরের কাঠের স্তম্ভে তৈরি ছিল, কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত তাদের নিরাপদ আশ্রয় ছিল। এখন তার সন্তানরা সংকীর্ণ, ভাঙা প্ল্যাটফর্মে শোয়া বাধ্য, যেখানে রাতের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

লেগুনটি লাগোসের দশটি বড় লেগুনের মধ্যে সবচেয়ে বড়, এবং শহরের তীব্র বাসস্থান সংকটের প্রেক্ষাপটে শরণার্থীদের জন্য একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ি না থাকা মানুষজনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই জলতীরবর্তী এলাকা দারিদ্র্য ও বেকারত্বের চূড়ান্ত সীমান্তে পরিণত হয়েছে।

ধ্বংসকাজে বড় বুলডোজার, এক্সকাভেটর এবং সশস্ত্র পুলিশ দল অংশ নিয়েছে। কর্মীরা লেগুনের তীরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, কাঠের স্তম্ভগুলোকে কেটে পানিতে ফেলে দিচ্ছে। একই সময়ে, কাঠের ছাদ থেকে ধাতব শিটগুলো নৌকায় ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অতিরিক্ত ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে দশটি স্বতন্ত্র অ-সরকারি সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, হিংসাত্মক দল, নিরাপত্তা কর্মী এবং ধ্বংস দলগুলো বারবার এলাকায় এসে ঘরগুলোকে আগুনে জ্বালিয়ে ধ্বংস করেছে। তারা জানিয়েছে, কিছু বাড়ি কোনো সতর্কতা ছাড়াই জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, এমনকি বাসিন্দারা ভিতরে থাকলেও।

ম্যাকোকোর জলপথে নৌকা ও ক্যানো চলাচল করছে, যেখানে স্থানীয় মানুষজন তাদের গদি, কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ভ্রমণ করছে। ধোঁয়া বাতাসে ভাসছে, যা ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি বা মানুষজনের জ্বালানো আগুন থেকে উৎপন্ন। এই দৃশ্যটি শরণার্থীদের কঠিন পরিস্থিতি ও তীব্র দুঃখকে প্রকাশ করে।

লাগোস রাজ্য সরকার এই অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করে, দাবি করে যে ধ্বংসের মূল উদ্দেশ্য হল উচ্চ ভোল্টেজ লাইন নিকটবর্তী এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা। তারা বলেছে, এই পদক্ষেপটি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য এবং কোনো ভূমি দখলের উদ্দেশ্য নয়।

ম্যাকোকো বসতি ১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে মৎস্যজীবীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ইলিশ ও অন্যান্য মাছ ধরার জন্য ব্যবহার করা এই এলাকা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বিশাল মানবিক সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে শত শত পরিবার কাঠের স্তম্ভে বসে জীবনযাপন করে।

এই ধ্বংসকাজের ফলে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি সরকারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে কাজ করতে আহ্বান জানাচ্ছে, আর সরকার নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সমন্বয় সাধনের জন্য বিকল্প সমাধান প্রস্তাবের দাবি করছে। ভবিষ্যতে, এই বিষয়টি নাগরিক অধিকার, নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

অবশেষে, শরণার্থীদের অস্থায়ী আশ্রয় ও মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য ত্বরিত মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, যাতে তারা এই অস্থির সময়ে নিরাপদে বাঁচতে পারে। সরকার, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া, এই জলতীরবর্তী সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে যাবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments