বাংলাদেশ সরকার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭ম ইজারা সুকুক বন্ড প্রকাশ করেছে। এই বন্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্ডের বিক্রয় ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ২:৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
বন্ডের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচিত তিনটি জেলার সড়ক, সেতু, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ প্রকল্পে তহবিল সরবরাহ করা। তহবিলের ব্যবহার সরাসরি সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে এবং প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ত্বরান্বিত বৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগের ন্যূনতম পরিমাণ দশ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে এবং মেয়াদ সাত বছর। মুনাফা প্রতি ছয় মাসে একবার প্রদান করা হবে, এবং সম্ভাব্য রিটার্নের হার ৯.৬০ শতাংশ। এছাড়া সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি করে।
বন্ড ক্রয়ের সুযোগ ব্যাংক, পুঁজিবাজার, ব্রোকারেজ হাউস এবং বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে উপলব্ধ। তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকই ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। বর্তমানে দেশে মোট চব্বিশটি ডিলার ব্যাংক রয়েছে, যেগুলো থেকে বিল ও বন্ড উভয়ই ক্রয় করা যায়।
বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ট্রেজারি পণ্য বিক্রয় হয় কিনা তা যাচাই করা জরুরি। যদি আপনার বর্তমান ব্যাংক এই সেবা না দেয়, তবে ডিলার ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলে বন্ড ক্রয় করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় আপনার নামে একটি বিপি (বিলিং পার্টি) হিসাব তৈরি করতে হবে।
বন্ডের বরাদ্দ অনুপাতিক ভিত্তিতে হবে; আবেদনকারী সকলেই বন্ড পাবেন, তবে প্রত্যেকের প্রাপ্তি আবেদনকৃত পরিমাণের অনুপাতে সীমাবদ্ধ থাকবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র জমা না দিলে বরাদ্দে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সঠিকভাবে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ।
ইজারা সুকুক একটি ইসলামী বিনিয়োগ সার্টিফিকেট, যা ভাড়ার চুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সম্পদের আংশিক মালিকানা পেয়ে সেই সম্পদ থেকে উৎপন্ন ভাড়া বা মুনাফা উপভোগ করেন। এই পদ্ধতি সুদ-ভিত্তিক প্রচলিত বন্ডের তুলনায় শারিয়াহ-সম্মত এবং ঝুঁকি কম বলে বিবেচিত।
বন্ডের বাজারে প্রবেশ নতুন তহবিলের উৎস তৈরি করবে এবং সরকারী গ্যারান্টি দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত বিকল্প হিসেবে এটি উল্লেখযোগ্য। তদুপরি, বন্ডের প্রকাশ স্থানীয় অবকাঠামো প্রকল্পে ত্বরান্বিত অর্থায়ন নিশ্চিত করবে।
বন্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে লিকুইডিটি সীমিত থাকা এবং বাজার মূল্যের ওঠানামা উল্লেখযোগ্য। তবে সরকারী গ্যারান্টি এবং করমুক্ত রিটার্ন এই ঝুঁকিগুলোকে কিছুটা কমিয়ে দেয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য সুস্পষ্ট রিটার্ন কাঠামো এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে পেমেন্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ইজারা সুকুকের সফলতা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরের সুকুক ইস্যুর পথ প্রশস্ত করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ইসলামী আর্থিক পণ্যের ব্যবহার বাড়িয়ে তুলতে ইচ্ছুক, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বাজারে এই ধরনের শারিয়াহ-সম্মত বন্ডের চাহিদা বাড়লে আর্থিক বাজারের বৈচিত্র্যও বৃদ্ধি পাবে।



