মিয়ানমার টিকের অবৈধ রপ্তানি নিয়ে ২০২৪ সালে নেদারল্যান্ডসের ওশিয়ানকো ও যুক্তরাজ্যের সানসিকার দু’টি শিপইয়ার্ডকে জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা জেফ বেজোসের ২০২৩ সালে ডেলিভার করা $৫০০ মিলিয়ন মূল্যের সুপারইয়াট “কোরু”‑র অভ্যন্তরে মিয়ানমার টিক ব্যবহারের ফলে আরোপিত।
টিককে সমুদ্রের লবণ ও পচনের বিরুদ্ধে উচ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দৃঢ়তা ও নান্দনিকতা থাকার জন্য উচ্চমূল্যায়ন করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে এটি বিলাসবহুল নৌকা ও হোটেলগুলোর ফ্লোর ও আসবাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যা মালিকের মর্যাদা ও স্বাদকে প্রকাশ করে।
সর্বোচ্চ মানের টিক পুরনো, বয়স্ক গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়, যা মূলত মিয়ানমারের প্রাকৃতিক বনের পুরনো গাছ। এই গাছগুলো সামরিক সংযুক্ত ব্যবসা থেকে বিক্রি হয় এবং যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ। ২০২১ সালে সামরিক কুপের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়, যদিও পূর্ব থেকেই দীর্ঘমেয়াদী রপ্তানি নিয়মের মাধ্যমে টিকের প্রবাহ সীমাবদ্ধ ছিল।
ওশিয়ানকো, যেটি কোরু নির্মাণের দায়িত্বে ছিল, ২০২৪ সালের শেষের দিকে মিয়ানমার টিক ব্যবহার করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরিমানা পায়। ডেকের টিকের উৎস এখনও জার্মানিতে তদন্তাধীন, যেখানে প্রথম আমদানিকর্তা অবস্থিত বলে জানা যায়। ডেকের কাঠ বৈধ প্ল্যান্টেশন থেকে এসেছে নাকি অবৈধ মিয়ানমার টিক, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ইউকে‑ভিত্তিক সানসিকারকেও একই সময়ে মিয়ানমার টিক ব্যবহারের জন্য জরিমানা করা হয়। উভয় শিপইয়ার্ডই এই লঙ্ঘনকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করে, সানসিকার তার দায়িত্বশীলতা প্রক্রিয়ায় ত্রুটি স্বীকার করে। উভয় সংস্থাই উল্লেখ করেছে যে সরবরাহ চেইনে যথাযথ যাচাইয়ের অভাবই মূল কারণ।
মিয়ানমার টিক এখনও সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, প্রায়শই অন্য উষ্ণমণ্ডলীয় দেশের প্ল্যান্টেশন টিকের নামে বিক্রি হয়। এই ধরনের গোপনীয়তা শিল্পে টিকের স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা হ্রাস করে।
এই সমস্যার প্রতিক্রিয়ায় নৌকা শিল্পে বিকল্প উপকরণের চাহিদা বাড়ছে। থার্মাল‑মডিফাইড কাঠ, সম্পূর্ণ সিন্থেটিক প্যানেল এবং ইঞ্জিনিয়ারড টিক ল্যামিনেটের মতো সমাধানগুলো বাজারে প্রবেশ করেছে। যদিও এই বিকল্পগুলো বহু বছর আগে থেকেই উপলব্ধ, সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তাদের গুণগত মান ও নান্দনিকতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে।
বিকল্প উপকরণের গ্রহণের গতি কেবল আইনি শাস্তির ফল নয়; পূর্বে সঞ্চিত পুরনো গাছের স্টক শেষ হয়ে যাওয়াও একটি প্রধান কারণ। নতুন গাছ থেকে উৎপাদিত প্ল্যান্টেশন টিকের গুণমান ও টেকসইতা নিয়ে এখনও কিছু সন্দেহ রয়েছে, ফলে উচ্চমানের গ্রাহকরা অধিকতর টেকসই ও সমতুল্য বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে।
ভবিষ্যতে মিয়ানমার টিকের সরবরাহ সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকলে, নৌকা নির্মাতাদের জন্য বিকল্প উপকরণকে মানদণ্ডে রূপান্তর করা অপরিহার্য হবে। একই সঙ্গে, সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বাড়াতে কঠোর ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া ও তৃতীয় পক্ষের সার্টিফিকেশন প্রয়োজন হবে, যাতে অবৈধ কাঠের ব্যবহার রোধ করা যায়।
সংক্ষেপে, মিয়ানমার টিকের অবৈধ ব্যবহার নিয়ে বড় শিপইয়ার্ডগুলোকে জরিমানা করা শিল্পে টেকসই উপকরণের দিকে রূপান্তরের ত্বরান্বিত করে। তবে এই পরিবর্তনকে সফল করতে সরবরাহ চেইনের স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধান এবং নতুন উপকরণের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।



