ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মোট পাঁচ হাজার গাড়ি রিকুইজিশন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। রিকুইজিশনকৃত যানবাহনগুলো নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিগত গাড়িও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
উচ্চ আদালতের ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডিএমপি এই বাধা অতিক্রম করে নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় গাড়ি সংগ্রহের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। রিকুইজিশন কার্যক্রমের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এবং প্রয়োজন অনুসারে গাড়ি ব্যবহার করা হবে, যা কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে গণ্য হবে না।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, নির্বাচনের জন্য প্রায় ২৪০০টি বাস, ৩০টি ট্রাক, ১১০০টি লেগুনা এবং এক হাজারের বেশি মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করা হতে পারে। এই সংখ্যা নির্বাচনী দায়িত্বের বিস্তৃততা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিকুইজিশনকৃত যানবাহনগুলো মোট নয়টি সংস্থার জন্য বরাদ্দ করা হবে। এতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং টেলিকম খাতের সংস্থাগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই সমন্বয়মূলক ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি পরিপত্র জারি করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব যানবাহনের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করে। তবে জরুরি প্রয়োজনে বিধি অনুসারে রিকুইজিশন বা ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করা যাবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চব্বিশের আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী সহিংসতার সময় ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি থানার গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ও লুট হওয়ার ফলে ডিএমপি দীর্ঘ সময় যানবাহনের সংকটে পড়ে। গত দেড় বছরেও প্রয়োজনীয় গাড়ি সংগ্রহে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল।
এই অভাব পূরণে ডিএমপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রিকুইজিশনের ওপর নির্ভরশীল। কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের সময় বাড়তি কার্যক্রম চালাতে অধিক সংখ্যক গাড়ি প্রয়োজন, যা না থাকলে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
রিকুইজিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু গাড়ি তিন দিন, অন্যগুলো পাঁচ দিন এবং কিছু গাড়ি ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত দিনের জন্য গাড়ি নেওয়া অনুমোদিত, তবে বাস্তবে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সময়সীমা বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি রিকুইজিশনকে কোনো আইনি ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচনা করে না এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় গাড়ি সংগ্রহের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে প্রকাশ করেছে।
এই ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু গতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিকুইজিশনকৃত গাড়ি নির্বাচনকেন্দ্র, ভোটার তালিকা প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা রক্ষার বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে।
ডিএমপি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নির্বাচনের পূর্বে গাড়ির তালিকা চূড়ান্ত করে রিকুইজিশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী গাড়ির সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভোটারদের সেবা ও নিরাপত্তা কোনো বাধা ছাড়াই পরিচালিত হয়।



