প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তে সাক্ষ্য দেবার জন্য সম্মতি জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি হাউস ওভারসাইট কমিটিতে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যেখানে এপস্টেইন মামলার সাথে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাক্ষ্যদানটি কংগ্রেসের আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে, যা রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে গুরুত্ব বহন করে।
বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে, উভয় প্রাক্তন নেতা কমিটিতে উপস্থিত থাকবেন। তিনি সংক্ষেপে উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি অব স্টেট উভয়ই সেখানে উপস্থিত থাকবেন, যা অফিসিয়াল নিশ্চিতকরণ হিসেবে কাজ করে। এই পোস্টটি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সাক্ষ্যদানের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
ইতিমধ্যে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস কংগ্রেসে ক্লিনটন দম্পতিকে অপরাধমূলক অবজ্ঞা (কন্টেম্পট) অভিযোগে দোষারোপের ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই পদক্ষেপটি তাদের আইনি সমন্বয়কে চ্যালেঞ্জ করে এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা পালনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। অবজ্ঞা অভিযোগের সম্ভাবনা উভয় দিকের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিল ক্লিনটনের ছবি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলগুলিতে দেখা যায়, তবে প্রাক্তন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট এ পর্যন্ত কোনো অবৈধ কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি এ পর্যন্ত এপস্টেইনের অপরাধে কোনো জড়িত থাকার কথা না স্বীকার করে, নিজের অজানা থাকার দাবি পুনর্বার প্রকাশ করেছেন।
এই সাক্ষ্যদানটি ১৯৮৩ সালে গেরাল্ড ফোর্ড কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তার পর থেকে প্রথমবারের মতো কোনো প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের জন্য ঘটছে। এভাবে ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় রচিত হবে, যেখানে প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের আইনি দায়িত্বের সীমা পুনরায় নির্ধারিত হবে।
হাউস ওভারসাইট কমিটি, যা রিপাবলিকানদের নেতৃত্বে, গত মাসের শেষের দিকে ক্লিনটন দম্পতিকে অবজ্ঞা অভিযোগে দোষারোপের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তে কিছু ডেমোক্র্যাটের সমর্থনও ছিল, যা পার্টি-সীমা অতিক্রম করে একটি সমন্বিত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার তখন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, আইনকে কোনো ব্যক্তির উপরে না রাখা উচিত। তিনি এই বক্তব্যে সকল নাগরিকের সমান আইনি দায়িত্বের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে, ক্লিনটন দম্পতির ওপরও একই মানদণ্ড প্রয়োগের আহ্বান জানান।
ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা সাবসিডিয়ারি সমিতির সমর্থন নিয়ে সাবপোয়েনা অপ্রয়োগযোগ্য বলে দাবি করেন এবং এপস্টেইন সংক্রান্ত তাদের সীমিত তথ্য ইতিমধ্যে প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তারা যুক্তি দেন যে, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া আইনি ভিত্তি ছাড়া করা হচ্ছে।
ক্লিনটন পরিবার এই সমন্বয়কে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অপমান করার উদ্দেশ্যে করা একটি চাল হিসেবে ব্যাখ্যা করে, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে। তারা এই আইনি আহ্বানকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখিয়ে, তার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক নেটওয়ার্কে একটি পোস্টে নিশ্চিত করেন যে, দম্পতি প্যানেলের সামনে উপস্থিত হবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উভয় পক্ষই সৎভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন এবং তারা সত্যি যা জানে তা শপথের মাধ্যমে জানাতে প্রস্তুত। এছাড়া তিনি ভবিষ্যতে সকলের জন্য সমান প্রয়োগের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিল ক্লিনটনকে এপস্টেইন অপরাধের কোনো বেঁচে থাকা শিকারী অভিযোগ করেনি এবং তিনি এ বিষয়ে তার অজ্ঞতা পুনর্বার জোর দিয়ে বলছেন। যদিও তার সঙ্গে এপস্টেইনের ফটোগ্রাফে দেখা যায়, তবে তিনি কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ অস্বীকার করেন।
বিচার বিভাগের ফাইল থেকে প্রকাশিত ছবিগুলি কংগ্রেসের আইন পাস করার পর প্রকাশিত হয়, যা এপস্টেইন মামলায় জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সংযোগের তথ্য সরবরাহ করে। এই প্রকাশনা ক্লিনটন দম্পতির আইনি অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং ভবিষ্যৎ তদন্তের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



