যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমাতে ঘুমের সমস্যার সমাধান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইনসোমনিয়া (অনিদ্রা) প্রায় এক-আট ডিমেনশিয়া কেসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই সম্পর্কের পরিমাণ প্রায় ১২ শতাংশ, যা দেশের মোট অর্ধ মিলিয়ন ডিমেনশিয়া রোগীর সমান।
গবেষণার ফলাফল ২৭ ডিসেম্বর জার্নালস অফ জেরোন্টোলজি: সিরিজ এ-তে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা যুক্তি দিয়েছেন যে ঘুমের গুণগত মান উন্নত করা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সম্ভাব্য একটি কৌশল হতে পারে।
এই বিশ্লেষণটি ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ডেটা বিশ্লেষক ও সহকর্মীরা পরিচালনা করেছেন। তারা জাতীয় স্বাস্থ্য ও বয়স প্রবণতা সমীক্ষা (NHATS) থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করেছেন, যা ৬,০০০-এরও বেশি ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী আমেরিকানদের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ করে।
অংশগ্রহণকারীরা নিজে থেকে ঘুমাতে অসুবিধা, ঘুম বজায় রাখতে সমস্যা অথবা উভয়ই আছে কিনা তা জানিয়েছেন। এই স্ব-প্রতিবেদন ভিত্তিক তথ্য ইনসোমনিয়ার প্রাদুর্ভাব নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
ডিমেনশিয়া নির্ণয়ের জন্য গবেষকরা মানক গবেষণাপদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যেখানে জ্ঞানীয় পরীক্ষা এবং পরিবারিক সদস্য বা পরিচর্যাকারীর রিপোর্টের সমন্বয় ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে রোগের উপস্থিতি ও তীব্রতা নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনসংখ্যা স্তরে ইনসোমনিয়া কতটুকু ডিমেনশিয়া ঘটাতে পারে তা অনুমান করা, ব্যক্তিগত স্তরে সরাসরি কারণ-প্রভাব সম্পর্ক স্থাপন নয়। এজন্য তারা ইনসোমনিয়ার প্রাদুর্ভাব, ডিমেনশিয়ার হার এবং সাম্প্রতিক বৃহৎ মেটা-অ্যানালাইসিস থেকে প্রাপ্ত আপেক্ষিক ঝুঁকি মান একত্রিত করে একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন।
এই পদ্ধতি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট ডিমেনশিয়া কেসের প্রায় ১২ শতাংশ ইনসোমনিয়া-সংশ্লিষ্ট ঘুমের ব্যাঘাত দূর করলে তাত্ত্বিকভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। এই শতাংশ শোনার ক্ষমতা হ্রাসের সঙ্গে সমান, যা ইতিমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃত।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এই সংখ্যা কোনো ব্যক্তিগত রোগীর জন্য সরাসরি কারণ-প্রভাব নির্দেশ করে না; বরং এটি জনসংখ্যা স্তরে ইনসোমনিয়ার সম্ভাব্য প্রভাবের একটি অনুমান। তাই ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইনসোমনিয়া ও ডিমেনশিয়ার সরাসরি সংযোগ নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত গবেষণা প্রয়োজন।
তবে ফলাফলটি ঘুমের স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত ঘুমের রুটিন, শোবার আগে ক্যাফেইন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরাও ইনসোমনিয়ার প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। যথাযথ ঘুমের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি বা ওষুধের ব্যবহার ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইনসোমনিয়া একটি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি উপাদান হিসেবে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও তাদের পরিবারকে ঘুমের গুণগত মানের দিকে মনোযোগ দিতে এবং প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য নিতে উৎসাহিত করা উচিত। আপনি কি আপনার ঘুমের অভ্যাস নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত?



