নরওয়ে, যেখানে HPV টিকাদানের হার অত্যন্ত বেশি এবং সার্ভিক্যাল ক্যান্সার স্ক্রিনিং একসাথে পরিচালিত হয়, সেখানে একটি নতুন গবেষণা দেখিয়েছে যে টিকাদানের সময়ের ওপর নির্ভর করে স্ক্রিনিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। গবেষণাটি ফেব্রুয়ারি ৩ তারিখে Annals of Internal Medicine-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে বিভিন্ন বয়সের টিকাদান গ্রুপের স্ক্রিনিং প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গণিত মডেলটি নরওয়ের জাতীয় ডেটা এবং স্ক্রিনিং প্রোটোকলকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে টিকাদান ও স্ক্রিনিংয়ের পারস্পরিক প্রভাব অনুমান করা হয়েছে। মডেলটি টিকাদানের বয়স, টিকাদানের কভারেজ হার এবং স্ক্রিনিংয়ের সংবেদনশীলতা ইত্যাদি প্যারামিটারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলাফলগুলো দেখায় যে টিকাদান ও স্ক্রিনিং উভয়ই উচ্চ মানের হলে ক্যান্সার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
বিশেষ করে, যদি কোনো নারী ১২ থেকে ২৪ বছর বয়সের মধ্যে HPV টিকাদান গ্রহণ করে থাকে, তবে তার জন্য প্রতি ১৫ থেকে ২৫ বছরে একবার স্ক্রিনিং যথেষ্ট হতে পারে। এই ফ্রিকোয়েন্সি পূর্বের পাঁচ থেকে দশ বছর অন্তর স্ক্রিনিংয়ের তুলনায় অনেক কম, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, যদি টিকাদান ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সম্পন্ন হয়, তবে গবেষকরা প্রস্তাব করেন যে দশ বছর অন্তর স্ক্রিনিং যথেষ্ট হবে। যদিও এই গ্রুপের জন্য স্ক্রিনিং ফাঁক বেশি, তবুও টিকাদানের ফলে ক্যান্সার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা হ্রাসের যুক্তি দেয়।
HPV টিকাকে ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং এর কার্যকারিতা বহু গবেষণায় প্রমাণিত। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে টিকাদানের সঠিক সময়ে গ্রহণ করলে টিকার সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া যায় এবং স্ক্রিনিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি কমানোর সম্ভাবনা বাড়ে।
মানব প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং বেশিরভাগ মানুষ যৌন সক্রিয় হওয়ার পর একবার বা একাধিকবার সংক্রমিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমিউন সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে ভাইরাসকে দমন করে, তবে কিছু উচ্চ-ঝুঁকির প্রকারের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেলুলার পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
HPV শুধুমাত্র সার্ভিক্যাল ক্যান্সারই নয়, গলা, লিঙ্গ এবং মলদ্বার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই টিকাদানকে বিস্তৃত ক্যান্সার প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নরওয়েতে ছেলেমেয়েরা ১২ বছর বয়সে একসাথে HPV টিকাদান গ্রহণ করে, যা দেশের উচ্চ টিকাদান কভারেজের প্রধান কারণ। এই নীতি টিকাদানের সমান প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করে এবং জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে সফল উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদানের সুপারিশ ১১ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুদের জন্য করা হয়, এবং নির্দিষ্ট বয়সের গ্রুপের জন্য ক্যাচ-আপ শিডিউলও উপলব্ধ। তবে টিকাদানের কভারেজ হার দেশভেদে পার্থক্যপূর্ণ, যা স্ক্রিনিং নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল নরওয়ের মতো উচ্চ টিকাদান কভারেজযুক্ত দেশে স্ক্রিনিং নীতি পুনর্বিবেচনার দরকারীয়তা তুলে ধরে। যদি টিকাদান যথাযথ বয়সে সম্পন্ন হয়, তবে স্ক্রিনিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় হ্রাস এবং রোগীর মানসিক চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, HPV টিকাদানকে সময়মতো গ্রহণ করা কেবল ক্যান্সার ঝুঁকি হ্রাসই নয়, স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা হ্রাসের সম্ভাবনাও তৈরি করে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উচিত টিকাদানের প্রচার বাড়িয়ে যথাযথ বয়সে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্ক্রিনিং নীতি অনুযায়ী সমন্বয় করা। আপনার যদি টিকাদান বা স্ক্রিনিং সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তৈরি করা উচিৎ।



