পাকিস্তানের দক্ষিণ‑পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে গত শুক্র‑শনিবার দুই দিনব্যাপী বোমা ও গুলিবর্ষণ ঘটায় মোট ১৯৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই আক্রমণগুলোতে বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী এবং হামলাকারী সকলেই শিকার হয়েছে।
বেলুচিস্তানের বিভিন্ন শহরে একাধিক বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলিবর্ষণ সমন্বিতভাবে চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, হামলাগুলোতে গুলি, আত্মঘাতী বোমা এবং গাড়ি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে ৩১ জন, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীর মধ্যে ১৭ জন এবং হামলাকারী দলের অন্তর্ভুক্ত ১৪৫ জন নিহত হয়েছে। মোট শিকারের সংখ্যা ১৯৩, যার মধ্যে আহতও বহু।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের মতে, নিরাপত্তা বাহিনী তিন দিনের মধ্যে ১৫০‑এর বেশি বিচ্ছিন্নতাবাদীকে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি এই আক্রমণকে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেওয়া দুইজন নারীও শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একের নাম আসিফা মেঙ্গাল, যাকে ভারতীয় পত্রিকা ইন্ডিয়া টুডে এবং পাকিস্তানি দৈনিক দ্য ডন উভয়েই উল্লেখ করেছে।
বেলুচিস্তান স্বাধীনতাবাদী দল (BLA) আত্মঘাতী হামলায় নারীদের ব্যবহারকে ‘নতুন যুগের’ প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। দলটি দাবি করে, এই নারী যোদ্ধারা তাদের সংগ্রামের শক্তি ও দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
BLA আরও জানিয়েছে, ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানে ২০০‑এর বেশি পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যার স্বতন্ত্র যাচাই করা হয়নি, তবু দলটি এই তথ্যকে তাদের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
হাওয়া বালুচ নামের এক নারী আত্মঘাতী হামলাকারী দাবি করেন, তার দল গওয়াদার ফ্রন্টের নিকটবর্তী পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে। তার বক্তব্যে তিনি বেলুচ জনগণের জাগরণ ও প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
BLA-র তথ্য অনুযায়ী, আসিফা মেঙ্গাল নোশকির ইন্টার‑সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স (ISI) সদর দপ্তরে গাড়ি বোমা ফাঁসিয়ে সেখানে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালু করেছে।
হাওয়া বালুচের পটভূমি আরও প্রকাশ পেয়েছে; তিনি বর্তমান ‘জেন জি’ প্রজন্মের একজন শিক্ষিত নারী, যার পিতা ২০২১ সালে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত বেলুচিস্তান স্বাধীনতাবাদী যোদ্ধা ছিলেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পারিবারিক পটভূমি তাকে এই পথে চালিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা বলেন।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণী নারীদের বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে যুক্ত হওয়া একটি বাড়তে থাকা প্রবণতা। তারা যুক্তি দেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রভাব এই তরুণী নারীদেরকে সশস্ত্র সংগ্রামে টেনে নিচ্ছে।
হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আত্মঘাতী বোমার রসায়ন বিশ্লেষণ করছে। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মঘাতী হামলাকারী ও সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফল ভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য সরকার প্রকাশ করেছে।



