অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে গিয়োগ্রাফি বে-তে গত শুক্রবার, ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘ সাঁতার পরিবারকে বিপদ থেকে রেহাই করিয়ে দেয়। তার মা এবং ৮ ও ১২ বছর বয়সী দুই সন্তান তীব্র বাতাসে ভেসে যাওয়া ইনফ্লেটেবল কায়াক ও প্যাডেলবোর্ডে আটকে ছিলেন, আর কিশোরটি চার ঘণ্টারও বেশি সময় সমুদ্রে সাঁতার কাটার পর তাদের উদ্ধার করে।
সেই দিন পরিবারটি প্যাডেলবোর্ডিং ও কায়াকিং করার জন্য গিয়োগ্রাফি বে-র জলে নেমে ছিল। হঠাৎ প্রবল বাতাসে তাদের ইনফ্লেটেবল কায়াক ও প্যাডেলবোর্ড উপকূল থেকে দূরে সরে যায়, ফলে মা ও দুই সন্তান পানির মধ্যে আটকে যায়। পরিস্থিতি দেখে কিশোরটি তৎক্ষণাৎ তীরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজের কায়াক নিয়ে সমুদ্রে পা বাড়ায়।
কায়াকের মধ্যে পানি ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরটি তা থামাতে পারল না; তাই তিনি সরাসরি সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরিধান করে দুই ঘণ্টা সাঁতার কাটার পর বুঝতে পারেন জ্যাকেটের কারণে গতি কমে যাচ্ছে। সময়ের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জ্যাকেটটি খুলে ফেলেন এবং আরও দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত সাঁতার কাটেন, মোট চার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে তীরে পৌঁছান।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তীরে ফিরে কিশোরটি জরুরি সেবা সংস্থাকে অবহিত করে। তৎপরতা দেখিয়ে উদ্ধার দল কাজ শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, রাত আটটা অর্ধেকের দিকে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ১৪ কিলোমিটার দূরে প্যাডেলবোর্ডে ভেসে থাকা মা ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয় এবং নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল কিশোরের সাহসকে ‘অতিমানবীয়’ বলে বর্ণনা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, কিশোরের এই দৃঢ়তা ও দ্রুত কাজ না থাকলে পরিবারটি মারাত্মক বিপদের মুখে পড়তে পারত। ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জাগিয়ে তুলেছে।
উদ্ধারের পর পরিবারটি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রয়েছে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা রিপোর্ট করা হয়নি। কিশোরের মা ও সন্তানরা নিরাপদে বাড়ি ফিরে গেছেন, এবং কিশোরের পরিবারকে সমর্থন জানাতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় সাহায্য ও উপহার প্রদান করেছে।
এই ঘটনাটি জলক্রীড়া কার্যক্রমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া পূর্বাভাসের প্রতি সতর্কতা এবং জরুরি সরঞ্জামের ব্যবহার অপরিহার্য। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন থেকে সমুদ্রসৈকতে প্যাডেলবোর্ড ও কায়াকিংয়ের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা নির্দেশিকা জারি করার কথা বিবেচনা করছে।
পাঠকদের জন্য মূল টেকঅ্যাওয়ে হল, সমুদ্র বা নদীর মতো প্রবাহিত জলে কোনো কার্যক্রমের আগে আবহাওয়া পরিস্থিতি যাচাই করা, লাইফ জ্যাকেটের মতো সুরক্ষা সরঞ্জাম সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাহায্য চাওয়ার জন্য মোবাইল ফোন হাতে রাখা। এই ধরনের সচেতনতা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সহায়ক হবে।
অবশেষে, কিশোরের এই বীরত্বপূর্ণ কাজ তরুণ প্রজন্মকে সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং অন্যের কল্যাণে আত্মত্যাগের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। স্থানীয় সমাজ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই ঘটনাকে শিক্ষামূলক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে, ভবিষ্যতে সমুদ্রসৈকত ও জলক্রীড়া কার্যক্রমে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।



