নেটফ্লিক্সে নতুন সিরিজ ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত হয়েছে। গল্পটি ২০০০-এর দশকের কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় গ্যাংস্টার ও রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রধান চরিত্র আইপিএস অফিসার অরজন মৈত্রের নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা শীঘ্রই কাহিনীর তীব্রতা অনুভব করবেন।
‘খাকি’ ফ্র্যাঞ্চাইজের পূর্বের সাফল্যের পর এই নতুন অধ্যায়টি শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমি তুলে ধরতে চায়। প্রথম সিরিজের পর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নেটফ্লিক্সে এই প্রকল্পটি বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। নতুন গল্পের মাধ্যমে কলকাতার পুরোনো গলিগুলোকে আধুনিক অপরাধের মঞ্চে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
প্রারম্ভিক দৃশ্যে এক সম্মানিত পুলিশ কর্মকর্তার অকাল মৃত্যু ঘটায় কাহিনীর মোড়। এই ঘটনার পর অরজন মৈত্র, যিনি আইপিএসের একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অফিসার, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তের দায়িত্ব নেন। তার লক্ষ্য হল গ্যাংস্টার ও রাজনীতিবিদদের জটিল জালকে উন্মোচন করা এবং শহরের ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
অরজন মৈত্রের চরিত্রকে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও ন্যায়বোধের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি শহরের অপরাধের গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করে শূন্যতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তার অনুসন্ধান কেবল এক ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, বরং পুরো সমাজের সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন।
এই সিরিজে জিৎ এবং প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি একসাথে স্ক্রিনে উপস্থিত হওয়া প্রথমবারের ঘটনা। দুজনের পারস্পরিক অভিনয় শৈলী ও ক্যারিশমা কাহিনীর উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। তাদের যৌথ উপস্থিতি দর্শকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ ও শক্তিশালী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্য প্রধান অভিনেতা হিসেবে সসওতা চ্যাটার্জি, পারমব্রতা চ্যাটার্জি, ঋত্বিক ভৌমিক, আদিল খান, চিত্রাঙ্গদা সিং এবং পূজা চোপড়া সহ আরও কয়েকজন শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব পটভূমি ও উদ্দেশ্য রয়েছে, যা গল্পের জটিলতাকে সমৃদ্ধ করে। সমগ্র কাস্টের পারফরম্যান্সকে সমালোচকরা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন।
দেবত্মা ম্যান্ডল এবং তুষার কান্তি রায়ের পরিচালনায় সিরিজটি নির্মিত হয়েছে। দুজন পরিচালক শহরের রাস্তায় বাস্তবিক দৃশ্য ও নাটকীয় মুহূর্তগুলোকে সূক্ষ্মভাবে সংযুক্ত করেছেন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি গল্পের গাঢ় থিমকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করেছে।
প্রযোজক নীরজ পাণ্ডে প্রকল্পের প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিরিজে কলকাতার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, নতুন মুখ ও নতুন সংঘর্ষকে তুলে ধরা হয়েছে। পূর্বের ‘খাকি’ ধারার তুলনায় এখানে স্টেকস বেশি, সত্য গাঢ় এবং চ্যালেঞ্জগুলো আরও কঠিন।
প্রযোজনার সময় দলটি শহরের পুরনো গলির পরিবেশ পুনর্নির্মাণে বিশদ গবেষণা করেছে। সেট ডিজাইন, পোশাক ও সাউন্ডট্র্যাক সবই ২০০০-এর দশকের বাস্তবিক চিত্র তুলে ধরতে মনোযোগী ছিল। এই প্রচেষ্টা সিরিজকে ঐতিহাসিকভাবে সঠিক ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।
দর্শকরা এখন এই নতুন অধ্যায়ে শক্তিশালী কাস্ট ও তীব্র গল্পের সমন্বয় প্রত্যাশা করছেন। নেটফ্লিক্সের প্ল্যাটফর্মে সিরিজটি সহজে প্রবেশযোগ্য হওয়ায় বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সিরিজের গাঢ় থিম ও শহুরে পটভূমি আধুনিক সময়ের সামাজিক সমস্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। কলকাতার গলি-গলিতে গ্যাংস্টার ও রাজনীতিবিদদের জটিল সম্পর্ক, আইপিএসের দৃঢ়তা এবং দুই বড় তারকার প্রথম যৌথ কাজ একত্রে উপস্থাপিত হয়েছে। সিরিজটি এখনই নেটফ্লিক্সে উপলব্ধ, তাই সময়মতো দেখা শুরু করুন।



