মোজিলা ফায়ারফক্সের সর্বশেষ সংস্করণ ১৪৮, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত হবে, ডেস্কটপ ব্রাউজারের সেটিংস‑এ এআই নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন বিভাগ যোগ করবে। এই আপডেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বর্তমান ও ভবিষ্যতে যোগ হতে পারে এমন জেনারেটিভ এআই ফিচারগুলোকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারবেন অথবা নির্দিষ্ট টুলগুলোই চালু রাখতে পারবেন। ফায়ারফক্স নাইটলি বিল্ডে এই পরিবর্তনগুলো ইতিমধ্যে পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে, ফলে স্থিতিশীল সংস্করণে রোল‑আউটের আগে ব্যবহারকারীরা প্রিভিউ পেতে পারেন।
ফায়ারফক্স ১৪৮‑এর এআই কন্ট্রোল প্যানেলে “ব্লক এআই এনহ্যান্সমেন্টস” নামে একটি টগল থাকবে, যা সক্রিয় করলে সব ধরনের এআই‑সংশ্লিষ্ট উন্নতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। ব্যবহারকারী এই টগলটি চালু করলে সাইডবারে চ্যাটবট, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ, পিডিএফ‑এর জন্য অ্যাল্ট‑টেক্সট জেনারেশন এবং এআই‑বর্ধিত ট্যাব গ্রুপিংসহ বিভিন্ন ফিচার বন্ধ হয়ে যাবে।
বিশেষভাবে, সাইডবারে যুক্ত চ্যাটবট ফিচারটি এখন অপশনাল হবে; ব্যবহারকারী চাইলে তা বন্ধ করে ব্রাউজারকে আরও হালকা রাখতে পারবেন। একইভাবে স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ ফিচার, যা ওয়েব পেজের টেক্সটকে রিয়েল‑টাইমে অনুবাদ করে, সেটি বন্ধ করা সম্ভব হবে। পিডিএফ ডকুমেন্টে অ্যাল্ট‑টেক্সট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করার ফিচারটিও ব্যবহারকারী পছন্দমতো নিষ্ক্রিয় করা যাবে।
এআই‑বর্ধিত ট্যাব গ্রুপিং ফিচারটি, যা সমজাতীয় ট্যাবগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজিয়ে গ্রুপের নাম প্রস্তাব করে, সেটি বন্ধ করলে ট্যাব ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল থাকবে। এছাড়া ওয়েবপেজের প্রিভিউতে “কী পয়েন্টস” দেখিয়ে লিঙ্কে ক্লিক করার আগে সংক্ষিপ্ত সারাংশ প্রদানকারী ফিচারটিও অপশনাল করা হয়েছে। ব্যবহারকারী যদি সব এআই ফিচার একসাথে বন্ধ করতে চান, তবে “ব্লক এআই এনহ্যান্সমেন্টস” টগলটি চালু করলেই যথেষ্ট হবে।
মোজিলার এই পদক্ষেপের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও ব্রাউজিং গতি রক্ষা করা। জেনারেটিভ এআই ফিচারগুলো প্রায়শই অতিরিক্ত রিসোর্স ব্যবহার করে ব্রাউজারের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে পেজ লোডিং সময় বাড়ে এবং মেমরি ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী এই ফিচারগুলোকে বন্ধ করার সুবিধা প্রদান করা একটি ব্যবহারিক উন্নতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রাউজার বাজারে গুগল (গুগল) এবং আলফাবেট (গুগল) সহ অন্যান্য বড় কোম্পানি ক্রমাগত এআই ফিচার যুক্ত করে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ফায়ারফক্সের এই নতুন অপশনটি দেখায় যে, সব ব্যবহারকারী এআই‑চালিত ফিচারকে স্বাগত জানায় না; কিছু ব্যবহারকারী দ্রুত, নিরাপদ এবং সরল ব্রাউজারকে অগ্রাধিকার দেন। এই পার্থক্যটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবহারকারী ভিত্তিক পণ্য নকশার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে।
ফায়ারফক্সের এআই নিয়ন্ত্রণ প্যানেলটি ডিফল্টভাবে বন্ধ অবস্থায় থাকবে না; ব্যবহারকারীকে সেটিংস মেনু থেকে নিজে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এই পদ্ধতি ব্যবহারকারীর স্বায়ত্তশাসনকে বাড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে যোগ হতে পারে এমন নতুন এআই ফিচারগুলোর জন্যও একই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা যাবে। ফলে, ফায়ারফক্সের ভবিষ্যৎ আপডেটে এআই ফিচারগুলোকে ধাপে ধাপে যোগ করা হলেও ব্যবহারকারী তা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার স্বাধীনতা বজায় থাকবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এ ধরনের ব্যবহারকারী‑কেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ ফিচার ব্রাউজার ইকোসিস্টেমে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। যদি অন্যান্য ব্রাউজারও অনুরূপ অপশন যোগ করে, তবে ব্যবহারকারীকে আরও বেশি কাস্টমাইজেশন সুযোগ পাওয়া যাবে এবং এআই ফিচারগুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমে যাবে।
মোজিলার এই আপডেটের মাধ্যমে ফায়ারফক্সের পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পুনরায় জোরদার হয়েছে। ব্যবহারকারী এখন সহজে নির্ধারণ করতে পারবেন কোন এআই ফিচার চালু রাখতে চান এবং কোনগুলো বন্ধ করতে চান, ফলে ব্রাউজারকে তাদের কাজের ধরণ ও পছন্দের সাথে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, ফায়ারফক্স ১৪৮‑এর এআই কন্ট্রোলস সেকশনটি ব্যবহারকারীর স্বায়ত্তশাসনকে কেন্দ্রে রেখে ডিজাইন করা হয়েছে, যা জেনারেটিভ এআই ফিচারগুলোর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে। এই পদক্ষেপটি প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহারকারী‑মুখী নীতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



